১৭ জুলাই ২০২১

মোঃ হা‌বিবুর রহমান

 


অ‌বোলার সঙ্গদান

( ছোট গল্প )              



প্রাতঃকালীন হাটাহা‌টি ক‌রার সময় ইদা‌নিং ক‌য়েক‌দিন যাবৎ দে‌খি এক মধ্য বয়সী পুরুষ কুকুর আমা‌দের‌কে অনুসরণ ক‌রছে, বলা যায় রী‌তিমত আমা‌দের সঙ্গ দি‌য়ে যা‌চ্ছে। হঠাৎ ক‌রে কুকুর‌টির সঙ্গ দেওয়ার ব্যাপ‌া‌রে একটা তপসারা খুঁ‌জে বের করলাম। সহসঙ্গী মেজর জামান‌কে বললাম,"জামান বলোতো কেন কুকুর‌টি আমা‌দের হাঁটার পুরা এক ঘন্টা সময়কাল নিঃস্বার্থভা‌বে সঙ্গ দি‌য়ে যা‌চ্ছে"? 


উত্তরটা একটু প‌রেই শুনি। হয়ত স্বগোত্রীয় কোন কুকু‌রের সা‌থে কামড়াকাম‌ড়ি ক‌র‌তে যে‌য়ে কিংবা ক‌ঠিন কোন হৃদ‌য়ের মানুষ তা‌কে স‌জো‌রে আঘাত ক‌রে তার এক‌টি পা ভে‌ঙ্গে দি‌য়ে‌ছে। কুকুর‌টি মা‌ঝে মা‌ঝেই খ‌ুড়ি‌য়ে খুড়ি‌য়ে দৌ‌ড়ে আমা‌দের হাঁটা দ‌লের একটু সাম‌নে যে‌য়ে আমা‌দের দি‌কে লেজ নাড়ায় আর চো‌খেমু‌খে কি যেন এক অদ্ভূত আকুল আকু‌তি জানায়। তার ঈশারা আর দেহভঙ্গির মাধ্য‌মে কেমন যেন একটা আহ্লাদ আহ্লাদ আর মায়াময় ভাব। কি মে‌সেজ বা বার্তা সে দি‌তে চায় তা বুঝার ক্ষমতা আমার নেই। 


ত‌বে মানুষ হি‌সে‌বে যা বুঝলাম সেটা হ‌লো, সে যে আমা‌দের‌কে খুব অন্তরঙ্গ ভে‌বে আমা‌দের সা‌থে তার সঙ্গটা ম‌নেপ্রা‌ণে উপ‌ভোগ কর‌ছে সেটা তার ঈশারা ইঙ্গি‌তে প‌রিস্কারভা‌বে সে যে বু‌ঝি‌য়ে দি‌চ্ছে আ‌মি সে ব্যাপা‌রে নিশ্চিৎ।


অতঃপর মেজর জামান বল‌লো "সার, আপ‌নি ব‌লেন"। আ‌মি তাকে বললাম, আমার ম‌নে হয় সে এ মহল্লায় আগন্তুক, তাই আমা‌দের প্রত্যক্ষ সাহা‌য্যে আগামী ক‌য়েক‌দিন ‌সে এ এলাকায় নি‌জেকে শত্রু মুক্ত রাখ‌তে চাই‌ছে। কারণ, সেও জা‌নে মানু‌ষের সা‌থে থাকা তার জন্য বিরাট একটা সা‌পোর্টের বিষয়। কারণ কুকুর‌দের ঘা‌ড়ে তো আর দুটো ক‌রে মাথা নেই ‌যে তারা সৃষ্টির সেরা জী‌বের সা‌থে পাঙ্গা নি‌বে বা টক্কর দি‌বে। 


কুকুর‌টি কিছ‌ু পথ চ‌লে, আবার মুল হাঁটা দ‌ল হ‌তে সামান্য পি‌ছে পড়ে আবার দৌড়ে যে‌য়ে পিছু পড়া রাস্তা কভার ক‌রে বার বার আমা‌দের দি‌কে ফি‌রে ফি‌রে তাকায়। সে ‌যেন স‌ত্যিই এক অপূর্ব দৃশ্য! আবার দৌড়ি‌য়ে সামান্য ‌কিছু লিড নি‌য়ে সাম‌নে যে‌য়ে চো‌খেমু‌খে একই ধর‌ণের আকু‌তি আর প্রভু ভ‌ক্তের চাহুনী যেন তার ‌চো‌খেমু‌খে ফু‌টি‌য়ে তুল‌‌ছিল। এরই ভিত‌রে আমাদের হাঁটা দ‌লের হাঁটা শে‌ষ ক‌রে ক‌য়েকজন সিনিয়র অ‌ফিসার নি‌জের গাড়ী নি‌য়ে বাসার দি‌কে রওনা দি‌লেন। 


আমার বাসা আর মেজর জামা‌নের বাসা কাছাকা‌ছি হওয়ায় আমরা পদব্র‌জে বাসার দি‌কেই আস‌ছিলাম। তা‌কি‌য়ে দে‌খি কুকুর‌টি ‌সেই একই কায়দায় আমা‌দের পিছু নি‌য়ে‌ছে। আ‌মি মেজর জামান‌কে বললাম, জামান, খেয়াল ক‌রেছো যে মিষ্টার ডগ আম‌াদের সা‌থে সা‌থেই আস‌ছে। 


মেজর জামান বল‌লো, "স্যার, এরা নিরীহ পশু হ‌তে পা‌রে কিন্তু এরাও কিন্তু দূর থে‌কে গন্ধ শু‌কেই ভাল মানুষ খু‌ঁজে বের কর‌‌তে পারে"। সাধারণ মানুষ হ‌লেও নি‌জে‌কে ধন্য ম‌নে করলাম এই ভে‌বে যে, যাক তাহ‌লে এত‌দিন প‌রে একজন ভা‌লো মানু‌ষের তা‌লিকায় ‌নি‌জে‌কে অন্তর্ভূক্ত ক'র‌তে পারলাম। 


মনটা ‌মুহূ‌র্তের ম‌ধ্যেই বেজায় খুশী হয়ে গে‌লো। অতঃপর দু'জনের পথ দু‌টি দি‌কে হওয়ায় যার যার বা‌সার প‌থে রওয়ানা হলাম। গল্পে গ‌ল্পে ‌বিদায় বেলায় কুকুর‌টির কথা একেবা‌রে ভু‌লেই গি‌য়ে‌ছিলাম।

মহুয়া চক্রবর্তী




ভালোবাসা 


ভালোবাসা - তাকে কি দেখেছো কখনো ! সে কেমন হয় গো , তার স্পর্শ পেয়েছো কি? 

জীবন জুড়ে শুধু অবহেলার চোরাবালি, যেখানে শুধু তলিয়ে গেছি আমি। 

ভালবাসাকে শুধু দূর থেকে দেখেছি, দূর থেকেই সে দিয়ে গেছে হাতছানি।

যখন কৃষ্ণচূড়ার বুকে, লাল আবিরের দল খেলে,

আমি তখন বিষাদ মনে শূন্য পথ পানে চেয়ে থাকি, সে আসবে ভেবে। 

মনের ঘরে জীবন প্রদীপ খানি জ্বালিয়ে রাখি।

তুমি আসবে বলে, কামিনীর সাজে সেজে, 

আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে হাতে,

নিজের প্রাণের মাঝে।

কবে আসবে তুমি 

সম্মুখের পথে দীপ্ত শিখাটি নিয়ে আছি

তোমার পথপানে চেয়ে ।

পুড়বে বলে রয়েছে আশায় 

আমার নিরব হিয়া।

কবে পাবো তোমার ভালোবাসার ছোঁয়া।

১৬ জুলাই ২০২১

কবি মিশ্র

 


অনুভূতির অলিন্দে


দশ বাই দশ ঘরটার মধ্যে যখন হাঁপিয়ে উঠি

তখন তোমার কাছে যাই।

তোমার শীতল স্পর্শ, আলতো অনুভূতি

আর কোথাও না পাই।!


ইদানিং তোমার পরিবর্তন 

বড্ড মন কাঁদায়,

তোমার পরিবর্তীত অবস্থানের সঙ্গে আর মানিয়ে নিতে পারি না।

রূপান্তর একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া

তবে আমি কি বেমানান?

প্রশ্ন গুলো মনে আছাড় মারে

আঘাত করে, হয়তো দুফোঁটা রক্ত চোখের কোল বেয়ে কপাল পেরিয়ে তোমার কাছে ছুটে যায়... 

কেউ বলে অশ্রু, কেউ বলে চোখের পানি.. 

কিন্তু আমি তো কিছুই বলি না!!

ওতে ও যে সোঁদা গন্ধ পাই...

সেই দশ বাই দশ ঘরটার অন্দরের সাদা দেওয়ালের মতো...

তবুও চোখ বোজালেই আমি

তোমার কাছেই যাই...

সোঁদা গন্ধের টানে, অনুভূতির অলিন্দে।।

মুন চক্রবর্তী

 


নিশিতের তারা


যাপন ঘরের গোপনে রাখা আছে হিরন্ময়ী 

এক এক করে আমার বিশ্বাস আত্মবিশ্বাসের আলোতে 

চোখের জলে কখন বৃষ্টি মিশে দীঘির পদ্ম পাতায় স্থির

সুখ দুঃখের ভার নিয়ে বৈঠার কঠিণ পথ চলা

আজ বুঝি একেলা পথের ঠিকানা বিহীন আমি

কিছু আলোক দ্যুতির সন্ধানে নিশিতের তারারা

হাতছানি দিয়ে যায়।

অনেক ক্লান্তি পার করে জীবন বিশ্বাসে, তারাদের বিজয় সম্মেলনে, হিরন্ময়ী পরশ খুঁজে নেওয়া।

ফারজানা আফরোজ




 রূপসী বর্ষা


হঠাৎ দমকা হাওয়া ছোটে চারিদিকে

আকাশের নীল ঘিরে যায় আঁধারে।

মেঘ থেকে ঝরে পরে বরষন ধারা,

কখনো অঝোর ধারায় কখনো টুপটাপ সুরে।

মনে পড়ে সেই ভুলে যাওয়া গান-

বৃষ্টির রিনিঝিনি শব্দে ফিরে আসে সেই চেনা সুর,

হারানো স্মৃতিরা ফিরে আসে বারে বারে।

বর্ষাকে আলিঙ্গন করার শত আয়োজন-

কদম ফুলেরা ফোঁটে গাছের শাখায়

ময়ূর পেখম মেলে নাচে তালে তালে

মেঠো পথ ভিজে ওঠে বৃষ্টির ছোঁয়ায়

সবুজ শ্যামলে ভরে ওঠে ধরনী।

নব উল্লাসে জেগে ওঠে হৃদয়,

পাহাড়ি ঝর্ণা ফিরে পেল প্রান।

সাঁঝের বেলায় ম্রিয়মান আলোয়,

ভেসে আসে মেঘের গর্জন।

বৃষ্টির নূপুর বাজে তমাল বনে-

থৈ থৈ জলে হাঁসেরা খেলে জলকেলি

পাল তোলা নৌকা ভাসে ঢেউয়ের স্রোতে।

ঘর ছাড়া মন রয়না আজ ঘরেতে-

ফিরে পেতে চায় ফেলে আসা দিন

কলাপাতার ভেলায় করে ভিজতে বৃষ্টিতে

বাদল দিনে হাঁটতে কেয়ার বনে

টিনের চালের টুপটাপ শব্দে ঘুমিয়ে পড়তে

রূপসী বরষা আসুক নব নব রূপে,

বর্ষার স্নানে শুচি হোক ধরা।

l

 l

n

 n

m

 m

q

 q

মোহাম্মাদ আবুহোসেন সেখ

 


সৃষ্টি কর্তা


আকাশ পানে চাঁদ সূর্য নক্ষএ কত গ্রহ তারা

জমীন পানে জীব প্রজাতি গাছ প্রকৃতি নদী-নালা

নীচ থেকে উপর মাঝে,ইট সাজিয়ে ছাদের মতোন

দিয়েছো যে পৃথিবীকে আকাশ নামের ছাদটাকে!

তারীর মাঝে নাইকো আজ,আমরা সুরক্ষিত।

খোদা তোমার রং বে রংয়ের খেলায় যে আজ

পৃথিবী নামক গ্রহের মানুষ,করছে হা হা কার।

অন্য গ্রহে যেন,দিওনা এই মরণ ব‍্যাথী করুন দোসা।

খোদা তুমি করলে ঘোষণা,পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব আমরা।

কোন ভুলে দিচ্ছো মোদের এত কষ্ট যন্ত্রণা।

হে খোদা তুমিতো দোয়ার সাগর দাওনা মোদের ভিক্ষা।

দুহাত তুলে দোয়া করি পৃথিবীকে শান্ত করো আবার।

পৃথিবীকে শান্ত করো আবার।

১৫ জুলাই ২০২১

রেবেকা সুলতানা ( রেবা )

 

স্বরচিত কবিতা পাঠে কবি    রেবেকা সুলতানা ( রেবা ) 





তুমিই শুধু  বুঝলে না


তোমার মুছকি হাসির মাঝে লুকিয়ে 

 থাকা দুষ্টুমির ভাষা আমি বুঝি।

তোমার গোম্ভিরতার মাঝে লুকিয়ে

থাকা অভিমানের ভাষা আমি পড়তে পারি।

তোমার মিথ্যে ভালো থাকার পিছনে

কষ্টের ব্যাথাগুলো অল্পতেই যে বুঝে ফেলি।

তোমার হেঁটে যাওয়ার পায়ের শব্দে 

আমি তোমায় চিনতে পারি যে!

সেলফোনের ওপাসে কেমন আছো তুমি

বুঝতে আমার একটুও দেরি হয় না রে।

চোখ বুঝলেই তোমার বদন খানি

আঁকতে পারি নিমেষেই

শুধু পারিনা ছুঁতে তোমায়।

হৃদয়ের ভাজে ভাজে তোমার নামে

বৃষ্টি ঝরে অঝর ধারায় 

তাই তো এতো কিছু বুঝতে পারি। 

শুধু তুমিই বুঝলে না আমায়

 নিরব শব্দের ব্যথার পাহাড়

শহর জুড়ে আছে আমার

বুকের বাঁ পাসের যন্ত্রনার  খবর 

কেউ  রাখেনা এখন  আর।

আইরিন মনীষা

 বিরহী অশ্রু


বিরহী অশ্রুর  আঁখিতে  ভরে

চেয়েছিনু  আমি তোমারি পানে,

অপেক্ষার প্রহরের যবনিকা টেনে

এইতো বুঝি কবি শুধালে কাব্য শানে. 


এখনো চোখে ভেসে ওঠে সেই ক্ষণ

সেই তোমার ডাগর কালো চোখের চাহণী,

সহাস্যে হেসে বলতে তোমাতেই হারিয়েছি মন

অথচ, কি আশ্চর্য আজ সেসব কেবলই ধুসর অতীত। 


এখন আর বেলকনিতে বসে আমার কাকাতুয়াটি ডেকে ওঠেনা

ভুলে গেছে  সে আমার প্রিয়জনের নাম ধরে ডাকতে,

ক্লান্ত বিকেলে একাকী প্রহরে আসেনা তোমার ফোন

পাইনা আমি নীল খামে পাঠানো তোমার সেই চিঠি।


কতদিন যাইনি সাঁঝের বেলায় সূর্যের রক্তিম আভা দেখতে

যেখানে করে গোধুলী আলো খেলা একান্ত আপন মনে,

তৃষিত আঁখিতে আজ ওঠেনা সুন্দরের সান্নিধ্যে শাণিত জোয়ার

সব যেন ধুসর বিবর্ণ ঝরাপাতার অপাংক্তেয় কথন।


বাদল দিনের বৃষ্টি ফোঁটায় সঞ্চারিত হয়না তোমার দেওয়া কদম

তুমিই তো এক সময় পরম আনন্দে ভালোবাসায় আমার খোঁপায় গুঁজে দিতে,

আর গুন গুনিয়ে বলতে আমায় বড়ই ভালোবাসি

যেখানে হতো প্রশন্ত বারিধারায়  প্রকৃতির সাথে আলিঙ্গন।


বসন্তের মাতাল সমীরণে বাসন্তী রঙে আর সাজা হয়না

পায়না শোভা বাসন্তী রঙে ম্যাচিং করে সাজগোঁজ

সবই এখন কষ্টের নোনাজলে ভেসে একাকার 

জানিনা কবে আমার এই বিরহী প্রহর হবে শেষ বা আদৌ হবে কিনা।


কি পেলাম আর কি পেলাম না তা নিয়ে ভাবি না আর

আমার বিরহী প্রহরে আমিই আমাতে হাসি কাঁদি,

আমার কষ্টের প্রহরের ভাগ কাউকে দিইনা আর দিতে চাইও না

আমার কষ্ট আমার বিরহী ক্ষণে একান্তই আমার অধিকার।

মমতা রায় চৌধুরী


মেঘ বালিকা


মেঘ বালিকা, মেঘ বালিকা

আজ তোমায় দিলাম ছুটি।

মেঘভেজা রোদদুর এসে

হাত বাড়িয়েছে দুটি।

টগর ,লিলি ,কেতকী

স্মিত হাস্যে উঠেছে মাতি।

ওদিকেতে পুকুর জলে

ভাসছে মোরোলা, সরপুঁটি।

মেঘ বালিকা ,মেঘ বালিকা

এবার তোমার ছুটি।

তাই বলে ভাই মনে রেখো,

আসছে আষাঢ় শ্রাবণে-

উড়িয়ে মেঘের ভেলা।

বৃষ্টি হয়ে ঝরে প'রো

অভিসারিকার পথে।

মেঘ বালিকা ,মেঘ বালিকা

এবার তোমার ছুটি।

নীলাম্বরী শাড়ি পরে,

আনমনে যাও তুমি।

অনেক দূর যেতে হবে

আরো অনেক পথ।

এমনই তো ছিল -

তোমার আমার শপথ।