০৭ জুলাই ২০২২

কবি শহিদ মিয়া বাহার এর কবিতা "মেরু রেখার ওপ্রান্তে হারাই"






মেরু রেখার ওপ্রান্তে হারাই
শহিদ মিয়া বাহার

আমি হাত রাখি শিল্পচারী অনামিকায় 
কি এক মায়ার ছায়া লাগে
ভেজা ভেজা বিকেলের ধূসর করতলে
যেন ছুঁয়েছে এ হাত, বহুদিনকার চেনা-চেনা  মোহ-মোহ  নীল কাবেরীর সুবর্ণ জল--!

তোমার মেরুরেখার ওপ্রান্তে
নেশা নেশা জোৎস্না নামে অবিকল দেবতার মত---
আমি জানু পেতে বিছিয়ে দেই 
               সান্ধ‍্য প্রদীপের আলোয় 
           নিমগ্ন প্রণতির জলপদ্ম বিহার--!

তুমি চুম্বকমতি মোহিত ময়ূরাক্ষী সই,
আকর্ষণ মগ্নতায়---
জারুল পাতার মুরলী সুরের তানে 
বিবশ কর উত্তর আর দক্ষিণ মেরু আমার!
আমি নির্জীব লৌহ দন্ডের মত বায়বিক আকর্ষণে ছুটে যাই 
তোমার মেরুকণার গহীন সাকী পেয়ালায়
আবেশ ধারকের বিদ‍্যুৎ প্রবাহের মতোন, 
প্রদোষ প্রহর, নিদ্রাহীন নিশুতি যাপনে--!

তুমি আশ্চর্য আলোর মত রাসায়নিক চোখ মেলে বেঁধে রাখ আমায়
গভীর মোহনেশা বিক্রিয়ার অনুসঙ্গ প্লাবনে--
আমি জারিত হতে হতে বিজিত সত্তা হারাই 
তোমার দৃষ্টির উপত‍্যকা, অরণ‍্যে
যেখানে জোনাকিরা কূল হারায় অনিরুদ্ধ যন্ত্রনায়--- ঘোর তমসায়!

আর কতদূর নিয়ে যাবে হে চুম্বকদেবী  
সীমান্ত কেটে কেটে
            গভীর তমিস্রায় আমায়--!?

কবি তাহেরা আফরোজা এর কবিতা "চৈত্রের দুপুর "




চৈত্রের দুপুর 
তাহেরা আফরোজ 

তপ্ত দুপুর 
প্রখর তাপে পুড়ছে মানুষ, প্রকৃতি, 
পুড়ছে মনের জমিন তোমার অপেক্ষায়। 
ব্যালকনিতে কামিনী, গোলাপ, বেলি, 
সমস্ত ঘরজুড়ে মিষ্টি সুবাস। 
নীল অপরাজিতা দেয়াল বেয়ে ফুটে আছে 
যেন নীল বিজলি বাতি সাজিয়েছে কেউ, 
কোথাও কোনো সাড়া নেই 
হাঁড়িকুঁড়ির খুটখাট আওয়াজ 
বড্ড বেশি কানে বাজছে 
আমার ধ্যান ভাঙিয়ে দিচ্ছে, 
ব্যালকনিতে কামিনী, গোলাপ, বেলি, 
সুবাসে মউ মউ করছে মন
সমস্ত ধ্যান তোমার অপেক্ষায়। 

চোখ বুজে তোমার আসাটা কল্পনা করি
যতটা সম্ভব দ্রুত গুছিয়ে নিচ্ছ এলোমেলো ফাইল
বেড়িয়ে পড়ার প্রচন্ড তাড়া
বারবার হাতঘড়িটা দেখছ 
ভাবছ, আমি পায়চারি করছি ঘরজুড়ে 
আমার ফোনের অপেক্ষায় তুমি 
আমিও তাকিয়ে আছি ফোনের মনিটরে
বেজে ওঠার আগেই আলোর সংকেত আসবে  
পাতাগুলো মৃদু দুলছে 
নিশ্বাসের আওয়াজ টের পাচ্ছি 
আয়নায় বারবার দেখছি মুখ 
রুগ্ন মুখাবয়বে চিকচিক রোশনাই, 
তোমার আগমন বার্তায় শিহরিত মন
সেই দ্যূতি ছড়িয়ে পড়েছে আজ চোখেমুখে 
ঢেকে দিয়েছে রুগ্নতার টোন। 
 
মনিটরে হঠাৎ নীল আলোর সংকেত 
রিংটোন বেজে ওঠার আগেই শুনবো 
তোমার প্রেমময় কণ্ঠস্বর, 
অদ্ভুত শিহরণে কাঁপছে শরীর
ঈষৎ নড়ে উঠলো আমার ঠোঁট - 
'হ্যালো'
তোমার আবেশ জড়ানো কণ্ঠস্বর ভেসে এলো , 
' এইতো কাছাকাছি এসে গেছি আমি'। 
কী এক অদ্ভুত আনন্দে নেচে উঠলো মনপ্রাণ 
তপ্ত দুপুরের নির্জনতা ছাপিয়ে 
বারবার কানে বাজছে, 'কাছাকাছি এসে গেছি'।

Jfho

LOVE

কবি অনিক রায় এর কবিতা "ধূলো"




ধূলো
অনিক রায় 


আমি ধূলো হয়ে পড়ে থাকি ধূলোদের সাথে 
আলোহীন গুমোট নক্ষত্রহীন রাতে 
ইরার হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে, এখানে হাঁটতে এলে 
স্পর্শ পাবো আমি তার নগ্ন পায়ের নরম করতলে 
আমার সাথে ধূলোরাও কাঁদবে সুখের অশ্রুজলে 
সেই ক্ষণের অপেক্ষায় ধূলোর আয়ু নিয়ে হায়
আমার বেঁচে থাকা চলে, 
যতক্ষণ অব্দি এক রাশ বায়ু আমায় 
ধূলোদের সাথে উড়িয়ে নিলো না ব'লে।।  

১৪ জুন ২০২২

কবি আমির হাসান মিলন  আমি থাকবো"





আমি থাকবো

আমির হাসান মিলন 



হৃদয়ের অসীম যন্ত্রণা 
চোখে দিলো ক্লান্তির অঝোর নেশা,  
বারে বারে বিক্ষুব্ধ ঝড়ে 
অজানায় উড়ে যায় গুছানো মমতা গুলো। 

তবুও গড়ার সাধ ভাঙেনি , কোন কালে ,
কোন ভয়ে , কোন হুঙ্কারে  ।  

এ কোন মহাকাল তবে ! 
স্বপ্ন পোড়ায় , দুর্গন্ধ ছড়ায় , উপহাসের বায়ুতে ,
লক্ষ-কোটি আশার ভ্রূণ নিরবে নষ্ট হয় চারদিকে ! 

শান্ত ঘায়ে চাবুক মেরে এই রক্তাত দেহে 
আর কতো বল চেটে-পুঁটে খাবি ? 
কবে তৃপ্ত হয়ে মরবি বল ? 

আমি তবুও এখানেই বেঁচে আছি  ,থাকবো 
স্বপ্ন বুনবো , আবার বাঁধবো নীড় , 
তোদের বেলা শেষে ।

১০ জুন ২০২২

Bff

LOVEন

কবি গোলাম মোস্তফা এর কবিতা "আমাদের শিশু"





আমাদের শিশু

গোলাম মোস্তফা 



শিশুরা নয়ন সুন্দর 
শিশু মানে পরিবারে সুখের স্পন্দন
বয়োবৃদ্ধদের অবলম্বন
নতুন পিতামাতার সম্পর্কের দৃঢ় বন্ধন।

শিশু মানেই আধো আধো ডাক
আধো আধো উচ্চারণ
শিশু মানেই টলোমলো চলা
কষ্ট কল্পিত মিষ্টি সম্ভাসন।

শিশু মানে অনেক যত্ন অনেক প্রত্যাশা
শিশু মানে মাতার রাত ঘুমহীন
বিরামহীন পরিচর্যা আর ভয়ে ভয়ে দিন যাপন
শিশু মানেই পরিবারে জেগে থাকা স্বপ্ন রঙিন।

যে শিশু শান্তি আনে স্বস্তি আনে 
বড় হলেই সে শিশুই আঘাত হানে
সে শিশুই পিতা মাতার দুঃখের কারণ
সে শিশুই পিতা- মাতার বুকে শেল হানে।

অনন্ত প্রত্যাশার শিশুর শিক্ষা হোক মানবিক
তোতা পাখি না হোক জীবন
বাস্তবতা দেখে ঠেকে ঠেকে শিখুক
সত্যের পথে পরিবর্তিত হোক আজীবন।

শিশুর শিক্ষা হোক কর্মমুখর 
বাবু সংস্কৃতির উর্ধ্বে উঠুক পরিবারের অনুশীলন
শিশু স্বনির্ভর ভাবে গড়ে উঠুক
স্বার্থপরতা নয় পরার্থপরতা হোক তার মিশন।

কবি মোঃ হা‌বিবুর রহমান এর কবিতা "জ্যৈ‌ষ্ঠৈর দুপু‌রে"





জ্যৈ‌ষ্ঠৈর দুপু‌রে

মোঃ হা‌বিবুর রহমান



ছন্দ তু‌লিয়াই ময়ূর যবে পেখম মে‌লিল স‌বে গগ‌নে,
কাকাতুয়ারা ধ‌রিলো গান ম‌নের সু‌খেই তা একা‌ন্তে।
‌কো‌কিলা এখ‌নো ডা‌কে কু-হু কু-হু গা‌ছের আবডা‌লে, 
মাছরাঙাটি ব‌সে আ‌ছে একই ধ্যা‌ণে মা‌ছের সন্ধা‌নে।

 শামুকভাঙ্গারা দল ‌বাধিয়া উ‌ড়িয়া গগ‌নে ছু‌টে চ‌লে,
কানা বকেরা মা‌ছের সন্ধা‌নে অ‌পেক্ষার প্রহর গো‌ণে।
হুতুম পেঁচা‌কে দি‌নের বেলায় দে‌খে হয় সবাই অবাক,
ঐ দূর হ‌'তে ‌ভে‌সে আ‌সে ঘুঘু পা‌খিদের সনাতন ডাক।

ভর দুপু‌রে দ‌খিনার বাতা‌সে দোলা দি‌য়ে যায় ম‌নে,
ম‌নে ছন্দ জা‌গে সেই দখিনা মৃদুমন্দ বায়ুর তো‌ড়ে।
ঘ‌রের পা‌শে আম্রপাতার পত পত আওয়াজ ‌যেন শু‌নি,
দুরূদুরূ মন আজি শু‌নি বিপ‌দের কোন আলামত না‌কি ?

‌জ্যৈষ্ঠের এ ভর দুপু‌রে সুরূজ ঢা‌লি‌ছে গ্রী‌ষ্মের খরতাপ,
ধরাটা পুড়ে হ‌'চ্ছে তাই ফু‌টিফাটা যেন একদম ছারখার।
‌কোথাও নেই বাতাস, পত্রপল্লব হ‌'য়ে গে‌ছে অসার স‌বি,
এ‌কোন সং‌কেত বু‌ঝি‌তে না‌‌ পা‌রি বিপ‌দের আশু ধ্ব‌নি।

দূর আকা‌শে জ‌মি‌ছে কা‌লো ঘন মেঘ ঈশান কো‌ণে,
সবাই ব‌সে আ‌ছে বৃ‌ষ্টির অ‌পেক্ষায় বড় আশা নি‌য়ে।

০৯ জুন ২০২২

Gffhh

LOVE

কবি দোদুল পার্থ "নিজেকে পাইনি কোথাও"





নিজেকে পাইনি কোথাও 

দোদুল পার্থ 



নিজেকে পাবো বলে আমি বহুপথ হেঁটেছি --
হেঁটেছি আমি সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত।
কাঁটানটের বন পেরিয়ে মাধবীলতার কাছে থমকে দাঁড়িয়েছি মৌনতায়,
দাঁড়িয়ে থেকেছি আকন্দফুলের বাকল ছুঁয়ে 
শুধুই নিজেকে পাবো বলে ।
নিজেকে পাবো বলে পানকৌড়ির ঠোঁটে বসন্ত জমা রেখেছি,
কলঙ্কিত যমুনার চোখে এঁকেছি মেঘবতীর প্রণয়,
একমুঠো ধূসরতায় আমি খুঁজেছি পৃথিবীর তাবদ উষ্ণতা , 
তবুও নিজেকে পাইনি কোথাও !
আমার আমিটাকে বাঁধবো বলে হরিণ শাবকের কাছে শিখেছি গতিময়তা,
চন্দ্রের কিরণ থেকে একমুঠো সাদা আলোয় ভরেছি চায়ের পেয়ালা,
কদমের খসে পড়া রেণুর থেকে কুড়িয়ে নিয়েছি জীবনের প্রগাঢ় আহবান ,
তবুও নিজেকে বাঁধতে পারিনি   !
নিজেকে পাইনি আমি স্কুল শেষে ঘরে ফেরা মেঠোপথে চৌধুরীদের আমের বনে।
পাইনি আমি শাহবাগ মোড়ে দাবি আদায়ের মিছিলে,
একতারা হাতে দাঁড়িয়ে থাকা কৌমুদী বাউলের সুরের মাঝে পাইনি নিজেকে।
অথচ নিজেকে খুঁজে চলেছি দুর্নিবার । 
মাতৃগর্ভ থেকে সদ্য ভূমিষ্ঠ হয়ে মা মা চিৎকারে গগন কাঁপিয়ে নিজেকে হারাবার পর, 
আর নিজেকে আজও কোথাও খুঁজে পাইনি !

Hshsyhs

LOVE

কবি শারমিন সুলতানা রীনা এর কবিতা "ব্যার্থ মানচিত্র"




ব্যার্থ মানচিত্র
শারমিন সুলতানা রীনা



আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নে ব্যাকুল হয়ে
বামন হলাম
বাতাসের শরীর বেয়ে ভেসে আসা 
ডানা ভাঙা পাখীর আর্তনাদ স্তব্ধ করে
বেদনায় লীন হয় বিষন্ন গোলাপ
মহাকালের বুকে

সবুজ ফসলের বিরান মাঠ ফিরে কি পাবে হারানো সৌন্দর্য 
পোড় খাওয়া প্রান্তর কাঁদে বিরহ শোকে

বুকে আগুন নিয়ে তবু কেউ সেচ হয়
জীবন জুড়ে শুধু আলো আঁধারের খেলা
ধূসর মরু বুক জলের প্রত্যাশায় বৃষ্টির জন্য অনন্ত অপেক্ষা

পলেস্তারা খসা প্রাচীন দেয়াল 
লাগেনা শিল্পিত তুলির ছোঁয়া

কত চাওয়া পাওয়া গুমড়ে গুমড়ে কাঁদে
দিনের বদল হয় ঘোরে কালের চাকা

জীবন সেকি পথ ভোলা অন্ধ গলি
নাকি বিষন্নতার বৈরাগ,
জোয়ারে মত্ত নদী ভাঙনের উন্মাদনায় কেঁপে ওঠা পাড়
সে কি পাহাড়ি ঝর্ণা চোরাবালি পথ
পেঁজা তুলো মেঘ রংধনুর সাতনরি হার
অবিচল পর্বত নাকি কেবলি সে এক ব্যার্থ মানচিত্র...

০৭ জুন ২০২২

মোঃ হাবিবুর রহমান এর প্রবন্ধ মানবিকতায়  বোধ"





প্রবন্ধ


মানবিকতায়  বোধ

মোঃ হাবিবুর রহমান 

নি‌জে ভুল ক‌'রেও অ‌নেক সময় অ‌ন্যের প্র‌তি অ‌ভিমান জন্মা‌তে পা‌রে। বেশীর ভাগ ক্ষে‌ত্রে এই অ‌ভিমানটি কিন্তু সম‌য়ের প‌রিক্রমায় দৃশ্যমান হবার আ‌গেই শূ‌ন্যে মি‌লি‌য়ে যায়।    

যা‌দের পঞ্চই‌ন্দ্রিয় খুবই তীক্ষ্ণ এবং পাশাপা‌শি যা‌দের মন‌‌ বেশ উদার প্রকৃ‌তির তা‌দের এই বোধগম্যতা তথা চেতনা‌বোধ‌টি বেশ আ‌গেভা‌‌গেই ভুল করার সা‌থে সা‌থেই জন্মে থা‌কে। ‌

বি‌বেকটি যা‌দের সদা জাগ্রত আর অন্যায় বোধ‌টি যা‌দের ত‌ড়িৎ গ‌তি‌র মত ক্রিয়াশীল হয়ে থা‌কে, সমা‌জে এই সমস্ত মানু‌ষেরা নি‌জের ভুল‌ সহ‌জেই বুঝ‌তে পে‌রে অনু‌শোচনা ক'র‌তে থা‌কে। 

আর এই বোধ‌টি থে‌কে তাদের অকস্মাৎ ও অনাকা‌ঙ্খিত অশা‌ন্তি‌ থে‌কে দ্রুতই ম‌ুক্ত হবার অ‌ভিপ্রায় জা‌গে আর পাশাপা‌শি সদা এই ভু‌লটির জন্য তারা নিজেই‌ নি‌জের প্র‌তি ধিক্কার জানা‌তে থা‌কে। 

আমি ম‌নে ক‌রি সমা‌জে এ‌হেন উন্নত মন মান‌সিকতার মানু‌ষেরাই প্রকৃত ভাল ও উত্তম মানুষ। 

মানুষ তো ভুল ক'র‌বেই ত‌বে কত দ্রুততার সা‌থে সে নি‌জে‌কে শুধরা‌নোর চেষ্টা ক'র‌বে সে বিষয়‌টি স্বয়ং সৃ‌ষ্টিকর্তা, মহন রাব্বুল আলামীন, আল্লাহতা'য়ালা যেমনটি পছন্দ ক‌রেন তেম‌নি এই জগ‌তের ভাল ম‌নের মানব মানবীরাও ‌বোধ ক‌রি একদম এর ব্য‌তিক্রম নয়।