১৯ নভেম্বর ২০২১

লেখক শান্তা কামালী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "বনফুল"২৭

চোখ রাখুন স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য পত্রিকার পাতায় লেখক শান্তা কামালী'র  নতুন ধারাবাহিক  উপন্যাস "বনফুল" 






বনফুল
( ২৭ তম পর্ব ) 

চারদিক থেকে ক্যামেরা জুম করে আছে।ফ্লাশের আলোর ঝলকানিতে বেশ বিব্রত পলাশ।একের পরে এক প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছে সাংবাদিকেরা। এরপর কি করবেন?কতোক্ষন পড়াশোনা নিয়ে থাকেন, আপনার এ্যাম্বিশন কি?ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে প্রায় সে ক্লান্ত।এমন সময় এসে গেলো অহনা আর সৈকত।ওরা এসে ঘরে বসতেই একজন প্রশ্ন করলো, আপনার কেউ স্পেশাল আছেন? তিনি কি খবর টা জেনে উইস করেছেন? 
এবার পলাশ বেশ গম্ভীর হয়ে বললো, ব্যাক্তিগত প্রশ্ন করবেন না প্লিজ।
অহনা ইশারায় পলাশ কে জানালো ওরা এসে গেছে, সে আসছে। 
পলাশ এবারে ইন্টারভিউ টা সংক্ষেপ করতে শুরু করলো। পরিস্কার বলে দিলো,"আমার ইচ্ছে আছে কোনো নামীদামি ভার্সিটি থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স করার।কিন্তু সামর্থ্য সায় দিচ্ছে না। দেখা যাক কি করা যায়।পরিবারের মানুষদের সাথে আলোচনা করতে হবে। প্লিজ, আপনারা আজকের মতো এই পর্ব এখানেই শেষ করুন।
সাংবাদিকেরা আস্তে আস্তে নিজেদের ব্যাগ,ক্যামেরা গুছিয়ে নিলেন। 
পলাশ টেরও পায়নি,তার ইন্টারভিউ এতোক্ষন লাইভ টেলিকাস্ট হচ্ছিলো। সাংবাদিকরা ধন্যবাদ দিয়ে বেরোবার সময় ও বুঝতে পেরে খুব লজ্জিত হয়ে সৈকত কে বললো, ইস্ আগে বুঝতে পারলে,ওদের সামনে তোমাদের পরিচয় করিয়ে দিতাম। 
অহনা বললো, না করিয়ে ই ভালো করেছেন ভাইয়া।জুঁই ফোন দিয়েছে, এক্ষুনি গাড়ি নিয়ে আসছে।ওর আব্বা আমাদের সবাই কে আজ সন্ধ্যার চা'য়ের আসরে দাওয়াত দিয়েছেন। রেডি হয়ে নিন।পনেরো মিনিটের মধ্যে এসে যাবে।

                                                                                                  চলবে...

শামীমা আহমেদ এর ধারাবাহিক গল্প "অলিখিত শর্ত"১৬

 স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য পত্রিকার পাতায় লেখক শামীমা আহমেদ'র  নতুন ধারাবাহিক  উপন্যাস "অলিখিত শর্ত"






শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত 
                                              (পর্ব ১৬)
   শামীমা আহমেদ 


রাহাত অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যাওয়ার পরপরই শায়লা মাকে নিয়ে বেরুলো।বাসার কাছেই একটা ভালো হসপিটালে আজ মায়ের  চেকাপ করিয়ে কিছু টেস্ট করিয়ে আনবে। এমনিতে  অবশ্য  মা স্বাস্থ্যগত নিয়মকানুন খুব মেনে চলেন। স্বামী  হারানোর পর দীর্ঘদিন সন্তানদের দেখভাল করে রাখতে হয়েছে।তখন থেকে মা বুঝে গেছেন তিনি নিজে সুস্থ না থাকলে সন্তানদের কে দেখে রাখবে? তাইতো শায়লা আর রাহাতের মাকে নিয়ে খুব একটা চিন্তিত হতে হয় না।তবুও বয়স হয়েছে কখন কোন আড়ালে আবার কোন রোগ বাসা বাঁধে। শায়লা মাকে ফাস্টিং অবস্থায় নিয়ে গেলো। সুগার চেক করাবে সাথে এমারজেন্সির ডক্টরের এডভাইস মত ব্লাডের অন্যান্য দিকগুলো টেস্ট করানো হবে। সেখানে প্রেসার দেখা হলো। এই বয়সেও বেশ ভালোই কন্ট্রোল্ড প্রেসার।শায়লা মায়ের সাথে থেকে সবকিছু করিয়ে আনলো।আজ সন্ধ্যায় কিছু আর আগামীকাল সকালে সব রিপোর্ট পাওয়া  যাবে।
শায়লা তখুনি বাসায় না ফিরে কাছেই একটা ভালো রেস্টুরেন্টে মাকে সাথে নিয়ে সকালের নাস্তা করে নিলো।প্রতিদিন সকালে মা  নাস্তা বানানো নিয়ে দিনের শুরু করতো।নিজের দিকে খেয়াল দেয়ার সময় কই? শায়লা ছুটে অফিসে বেরিয়ে গেছে। রাহাত নায়লা কলেজ ইউনিভার্সিটিতে। সব চাপ একা সামলিয়েছে।
মায়ের এসব বিষয় শায়লা খুব ফিল করে।

উত্তরা এলাকায় রেস্টুরেন্টের অভাব নেই।দিন দিন নতুন নতুন সব নাম দিয়ে  রেস্টুরেন্ট খোলা হচ্ছে।ছেলেমেয়েরা খুবই আধুনিক হয়ে গেছে। সব ইয়াং ছেলেপেলেদের হ্যাং আউট,গেট টুগেদার,জন্মদিন সেলিব্রেট, আড্ডা হৈ চৈএ এইসব জায়গা সরগরম থাকে।
শায়লা  ভাবলো মাকে নিয়ে আজ একটু  ঘুরাঘুরি করবে ।সুপারশপে নিয়ে মায়ের পছন্দের কিছু কেনাকাটা করাবে।এসব ক্ষেত্রে মায়েরা একটু আড়ষ্ট হয়ে থাকে।মায়েরা ঘরে থাকতেই বেশি আরাম বোধ করে।আর শখের জিনিস কিনে দেয়ার জন্য সন্তানদের কাছে বায়না করে। পৃথিবীর কী অদ্ভুত খেলা! মা বাবারা একদিন নিজের সন্তানদের মতই হয়ে যায়। শায়লা "স্বপ্ন" সুপার শপের প্রতিটি ফ্লোর মাকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখালো।মা নিজের পছন্দে ঘরের সাংসারিক কিছু জিনিসপত্র, ফ্রোজেন খাবার ,রাহাতের পছন্দের চিপস,চকলেট কিনলো।মায়ের অনেকদিনের ইচ্ছা ছিল একটা ননস্টিক ফ্রাইপ্যান কেনার।আজ শায়লা দেখেশুনে সেটা কিনে দিলো। সাথে এক সেট চায়ের কাপ।রঙিন এক সেট গ্লাস।নায়লা জামাই নিয়ে এলে অন্তত সামনে তো ভালো কিছু দিতে হয়। শায়লা খুব জোর করে মাকে এক জোড়া বিদেশি স্যান্ডেল কিনে দিল।ঘরে পরবার জন্য। বাবার মৃত্যুর পর আর মায়ের চাওয়া পাওয়ার দিকে তাকানো হয়নি। এখন রাহাত  মোটা স্যালারীর ভালো চাকরি  করছে। শায়লাকে রাহাতের বলা আছে মায়ের শখ, ইচ্ছা, প্রয়োজন  কিছুই যেন অপূর্ণ না থাকে সেদিকটায় খেয়াল রাখতে।

প্রায় বারোটা পর্যন্ত ঘুরাঘুরি শেষে  শায়লারা বাসায় ফিরে এলো। গতকালের রান্নার অনেক খাবার ফ্রিজে।আজ আর রান্নার ঝামেলা নেই। শায়লা মাকে কাপড় বদলানোতে সাহায্য করে একটু রেস্ট নেয়ার জন্য  বললো। নিজের ঘরের দিকে পা বাড়াতেই ব্যাগের ভিতর ফোন বেজে উঠল! রাহাতের ফোন।মায়ের খোঁজখবর নেয়ার জন্য। শায়লা সব জানালো।রাহাত খুব খুশি হলো।
শায়লা নিজের ঘরে এলো।নাহ! শিহাবের কোন মেসেজ নেই।ভাবলো, একটু খোঁজ নেয়া যাক।উনিই তো সবসময় খোঁজখবর করেন। শায়লা মেসেজ পাঠালো,কেমন আছেন? কি করছেন? 
জাস্ট মেসেজ রেখে ঘুরতেই রিপ্লাই চলে এলো, যেন শায়লার মেসেজের অপেক্ষাতে ছিল!এইতো একটু অফিসের জন্য বেরুবো। সবাই অফিসে এলে, কাজকর্ম শুরু করলে তারপর আমি যাই।
আচ্ছা, আমিও একটু বেরিয়েছিলাম।এইতো কাছেই লুবানা হসপিটালে মায়ের চেকাপের জন্য।
শিহাব জানতে চাইল, কোন লুবানা হস্পিটাল?
কেন উত্তরায় আমার বাসার খুব কাছেই,
কেন চেনেন নাকি?
ফট করে মেসেঞ্জারে শিহাবের কল চলে এলো।শিহাব এতটাই আশ্চর্য হয়ে গেছে যে কল করবার জন্য অনুমতি নেয়ার কথা ভুলেই গেছে।
শায়লা কল রিসিভ করতেই বললো
কাছে মানে?
আমার ফ্ল্যাটের পেছনেই।আহ! আগে জানলেতো আমি চলে আসতাম। মাকে নিয়ে এলেন, আমি সাথে থাকতে পারতাম।
শায়লা কিছুক্ষণ নির্বাক হয়েছিল।একেবারে হতভম্ব হয়ে গেলো! নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। এমনও হয় নাকি?
যদিও সে অনেকদিন যাবৎ ভাবছিল শিহাব কোথায় থাকে তা জানতে চাইবে।
শায়লা নিযেকে একটু স্বাভাবিক করে নিয়ে বললো, না আমরাতো চলে এসেছি।সকালে গিয়েছিলাম।কিছু টেস্ট করাতে।
তা রিপোর্ট কবে দেবে? 
এইতো কাল সকালে যেতে হবে।
ঠিক আছে। আমাকে জানাবেন কেমন রিপোর্ট এলো।
শিহাবও এতটাই অবাক হলো যে,মিরাকল শব্দটা বোধহয় এরকম সিচুয়েসশনের জন্য
সৃষ্টি হয়েছে! 
শায়লা অবচেতন মনে  কল্পনায় শিহাবকে ভেবে চললো। মাকে নিয়ে সে আর শিহাব  হাসপাতালের বিভিন্ন ফ্লোরে উঠছে নামছে! শিহাবের হাতে মায়ের সব কাগজ পত্র আর শায়লা মায়ের কাছ ঘেষে ঘেঁষে হাঁটছে!
কেমন যেন একটা অস্বস্তি ভাব চলে এলো শায়লার ভেতর। যাকে কখনো দেখেনি কেমন করে তার চলাচল কল্পনায় আসে।মানুষের ব্রেনের অসম্ভব রকমের কল্পনাশক্তি! অদেখাকেও জীবন্ত করেভ তোলে।কল্পনা আর বাস্তব এত কাছাকাছি! এত কাছের বসবাসের দুজন মানুষ কেমন করে অচেনা থেকে আজ চেনা হয়ে উঠছে।
শায়লা শিহাবের প্রোফাইল ঘুরে এলো।হ্যাঁ,কিছু ছবি আছে, তবে তাতে একেবারেই বুঝা যাচ্ছে না ছবিগুলো কোথায় তোলা!
শায়লা শিহাবের নাম দিলো রহস্যমানব।এতটা কাছে জানার পর কেমন যেন অনুভুতি হচ্ছে শায়লার।মনে হচ্ছে এই এখুনি বাসা থেকে বেরুলেই বুঝি তার সাথে দেখা হয়ে যাবে! যেন  তার সাথে  কত যুগের পরিচয়! হঠাৎ  করে কথাও হলো।বেশ সহজ সাবলীলতায় কথা বলে চললো।
শায়লা তার বিছানায় একেবারে নির্জীব কাঠের পুতুলের মত বসে রইল!

শিহাব  নিজেকে গুছিয়ে নীচে নেমে এলো। শিহাবের এক্সপোর্ট ইম্পোর্ট বিজনেস।কিছু গার্মেন্টস কোম্পানীর ড্রেস ম্যাটিরিয়ালসের সাপ্লায়ার।পাশাপাশি নিজেও গাজীপুরে ছোট্ট একটা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির  মালিক।তার দুটো  শোরুম আছে উত্তরায় নর্থ টাওয়ারে।মাঝে মাঝে সেখানেও ঢুঁ দিতে হয়।ক্যাশ রিসিভ করা প্লাস ক্রেতার চাহিদা ও অন্যান্য  দিক দেখবার জন্য যেতে হয়।যদিও  সেখানে সব বিশ্বাসী মানুষদেরই রাখা হয়েছে।তবুও,  নিজেকে কাজে ব্যস্ত রাখা আর কি!
বিদেশি বায়ারদের সাথে নানান সময়ে লাঞ্চ ডিনারে যাওয়া, তাদের সাথে সময় কাটানো।প্রতিযোগিতামূলক সময়ে চোখ কান খুলে ব্যবসা করতে হয়। ব্যবসায় যেমন বন্ধুত্বের সৃষ্টি হয় তারাই আবার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে শত্রুতে পরিণত হয়।নিত্যদিন যেসব বন্ধুদের সাথে উঠাবসা তারাই গোপন শত্রু হয়ে একসময় বেরিয়ে আসে।তবে শিহাবের সবচেয়ে বড় শক্তি তার মায়ের দোয়া।মা ভক্ত শিহাবকে মা'ই শিখিয়েছে সততা নিয়ে কাজ করলে তার পুরষ্কার পাবেই। আর মানুষের  সাথে সুন্দর  ব্যবহার।হতে পারো তুমি অনেক ধনী কেউ কিন্তু গরীব ধনী  সবার সাথে একই ব্যবহার করবে। শিহাব মায়ের আদেশ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলে। তবে এই বয়সে মা তাকে নিয়ে ভীষণ  চিন্তা করে। রিশতিনা চলে যাবার পর মা ভীষণ ভেঙে পড়ে। শিহাব  ছোট বেলায় মাকে অনেক জ্বালাতন করতো। তবুও মা হাসিমুখে সব মেনে নিতো। কিন্তু এখন দুশ্চিন্তায় ডুবে যায়।
শিহাব নিজের কর্মস্থল অফিস উত্তরা কুশল সেন্টারের সাততলায়।বাইক থামতেই চেনাজানাদের সাথে সালাম আদাব বিনিময় চললো।এমনিতেই শিহাবের বাইক থামলে দোকানের মানুষজন তাকে একনজর দেখবার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
শিহাব দ্রুতই লিফটে উঠে গেল।
লিফটে সাততলার ফ্লোরে নামতেই কবিরের সাথে দেখা। স্যারকে দেখে সে সালাম দিল।কবির শিহাবের অফিসের হেল্পিং হ্যান্ড। শিহাবের অফিসরুম কাগজপত্র গুছিয়ে রাখে।প্রাথমিক ফোন রিসিভ করে।বেশ অনেকদিন হলো আছে এখানে। চোখে সানগ্লাস পরা শিহাবের ঘি রঙা শরীরে মেরুণ শার্ট, নেভিব্লু প্যান্ট আর সাথে শাইনিং ব্ল্যাক সু তে একেবারে সেইরকম জেমস বন্ড হিরোর মত লাগছে। আর শিহাবের লুকের একনিষ্ঠ ভক্ত কবির অবাক হয়ে ওর স্যারকেই দেখছে!ওর ঐ একটাই কথা স্যার আফনে ফিল্মে যান। আপনি হিরো হইবেন আর আমি দিলদার হমু।শিহাব শুধু হাসে। 
বাইরে প্রচন্ড গরম।শিহাব দ্রুত এসি
রুমে ঢুকতেই কবির জানালো, খালেক সাহেব এসেছিলেন। আপনি আসেননি তাই পরে আসতে বলছি। 
ঠিক আছে। উনি আসলে ভিতরে পাঠিয়ে দিও।এখন আমার জন্য কফি আনো।আর এক প্যাকেট বেনসন। শিহাব পাঁচশত টাকার একটা নোট এগিয়ে দিলো।
টুং করে মেসেজ এলো।
শায়লার মেসেজ।
আচ্ছা আপনি  অফিসে যাবেন বলছিলেন।
আপনার অফিসটা কোথায়?
কেন আসবেন নাকি
নাহ! মাথা খারাপ? এমন অচেনা মানুষের অফিসে যাবো?
আমি এখনো অচেনা?
হ্যা, সবকিছু কি আর জেনেছি আপনার?
না তা জানাইনি।তবে লুকানোর ও কিছু নেই।
শিহাব সততায় বিশ্বাসী বুঝলেন। আমার মা আমাকে শিখিয়েছেন।
আপনার মা? কোথায় থাকেন? 
জিগাতলা আমাদের নিজের বাড়িতে।
ওহ! আচ্ছা।
শিহাবের কফি চলে এলো।কবিরের পিছনে খালেক সাহেব।
ভেতরে আসুন।
শিহাব শায়লাকে বাই জানালো।
খালেক সাহেব আর শিহাব কফি কাপ নিয়ে নিজেদের মধ্যে কথায় ব্যস্ত হলো।
শিহাবের গার্মেন্টসের পরর্বতী শিপমেন্টের অর্ডার নেয়ার  জন্য খালেক সাহেবের অফিস তাকে পাঠিয়েছে।
শিহাব খালেক সাহেবের কাছে তার অফিস পরিচিতির কাগজ পত্র চাইল।
কফিতে চুমুক দিতে দিতে ল্যাপটপ অন করে মেইলগুলো চেক করতে শুরু করলো।

কবির  কিছু স্যাম্পল নিয়ে এলো  শিহাবকে দেখাতে। শার্ট, প্যান্টের বাটন,কাপড়, সুতা, মেশিনারিজ পার্টস।  শিহাব একে একে সব চেক করলো। মেইলে দেয়া ডেস্ক্রিপশনের সাথে মিলিয়ে নিলো। বিভিন্ন দেশ থেকে এই স্যাম্পলগুলো এসেছে। শিহাবের অনুমোদন  হলেই ওর গার্মেন্টসে ইউজ হবে।
এবার খালেক সাহেবের সাথে কথা হলো। তাদের বিজনেস পেপারস সব দেখলো। শিহাব উলটে উলটে সব দেখলো।তাদের লাইসেন্স,এক্সপোর্ট ইম্পোর্ট পারমিশন , ইনকাম ট্যাক্স  পেপারস,,,
শিহাব সময় চেয়ে নিলো। নিজে খোঁজ খবর করে তবেই তাদের সাথে যোগাযোগ করবে।
খালেক সাহেব বিদায় নিলে শিহাব জিগাতলায় মাকে ফোন দিল। আরাফের খোঁজ খবর নিতে হবে।শিহাব খুব বেশি কল দেয় না। আরাফ তাহলে বাবার কাছে আসার জন্য কান্নাকাটি জুড়ে দেয়। এমনিতে সবার সাথে ভালো ই থাকে। বড় হয়ে ও যখন জানবে ওর মা ওকে রেখে চলে গেছে, তখন কি মা জাতটিকে সে আর ভালবাসতে পারবে? শিহাব মোবাইলে রাখা রিশতিনার ছবিটি বের করে দেখলো।
শিহাবের বুকের ভেতরটা হু হু করে উঠল। 
চলবে...

BVb

LOVE

VBFb

LOVE

BVb

LOVE

fgfd

LOVE

১৮ নভেম্বর ২০২১

মমতা রায়চৌধুরী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন"৪৬

কান্ত মনেই লিখে চলেছেন লেখক।  তার নিত্যদিনের  আসা  যাওয়া ঘটনার কিছু স্মৃতি কিছু কল্পনার মোচড়ে লিখছেন ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন "






টানাপোড়েন (৪৬)
চিরন্তন গন্ধ



                                                                         বুজে ঘেরা গ্রাম আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা ।ওদের মাটির ঘরগুলো এত সুন্দর করে নিকানো। মনে হতো বারবার দেখি।পাখি ,লতা, পাতা, ফুল সুন্দর করে চিত্রিত করা। জায়গাটির পাশে আসলেই মনে পড়ে যায় ছোট্টবেলার সেই দিনগুলোর কথা। গাড়ি অবশেষে এসে পৌঁছাল আদ্রাহাটিতে। মনোজ বলল, রেখা কতদিন পর তুমি তোমার নিজের গ্রামে আসলে। চিনতে পারছো?
রেখা বলল  'চিনতে পারব না?'
ওই তো বারোয়ারি ঠাকুর দালান।
একসময় এই ঠাকুরদালানে বিকেল বেলায় কত আড্ডা হতো বয়:জ্যেষ্ঠদের।
ওতো পঞ্চানন কাকার দোকান। পঞ্চানন কাকাকে দেখতে পাচ্ছি না কেন?'
গাড়ি এসে থামল। 
রেখা আরো বললো 'পাশের বাড়ির বুলু জেঠিমা, বুড়োদা,নীলুদা কাউকে দেখতে পাচ্ছি না।
বাড়ির ভেতরে অবশ্য কারুর কারুর আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।'
মনোজ বললো  'চলো আগে বাড়িতে।'
রেখা বলল ' হ্যাঁ ,ঠিক বলেছ।'
রেখা উঠোনে পা দিয়ে ডাকতে শুরু করলো  'কাকিমা ,কাকিমা ,কাকিমা..,।'
ঘরের থেকে আওয়াজ আসলো  'কে?'
ভেতরের গেটের দরজাটা ছিটকিনি লাগানো ছিল খুললেন।
সন্ধ্যা কাকিমা বেরিয়ে এসে বললেন ' কে?'
রেখা বলল  'আমি ননী ।'
সন্ধ্যা কাকিমা বললেন ' ননী এসেছিস? আয় মা ।কতদিন পর তোকে দেখছি।'
মনোজ বলল  'তোমার নাম আবার ননী নাকি জানতাম না তো?'
কাকিমা শুনতে পেয়ে বলল  ' জামাই ও ছোটবেলায় একদম মাখনের মতো ছিল। তাই আমরা ওকে ডাকতাম ননী বলে।'
ঘরের থেকে কাকা আওয়াজ পেয়ে বিছানা থেকে বলল  'কে ?কে এসেছে?'
কাকিমা বলেন 'ওই এক বাতিকগ্রস্ত লোক হয়ে গেছে ।যখনই কারো আওয়াজ পাওয়া যাবে ।মনে হবে যেন তোমরা এসেছ।
আজকে অবশ্য তার অনুমান সঠিক হয়েছে।'
গলাটা বাড়িয়ে সন্ধ্যা কাকিমা বললেন 'ননী এসেছে'।
বলতে বলতেই রেখা আর সন্ধ্যা কাকিমা ভেতরে ঢুকে আসলো। 
রেখা ও মনোজ কাকা- কাকিমাকে প্রণাম করলো।
কাকার একটা সাইট প্যারালাইজড হয়ে পড়ে আছে ।কাকা অবনীবাবু তাই বলেন 'থাক  প্রনাম করতে হবে না ।তোমরা এসেছ এতেই আমার মনের শান্তি। আজকাল তো বড়ো কেউ আসে না।'
কাকা নিজের মনে বলেই চললেন ' অথচ এক সময় এই বাড়ি লোকজনে সব সময় পরিপূর্ণ ছিল।
হাসি -ঠাট্টা, মজা -আনন্দ ,উৎসব বা পূজা-পার্বণেতে অবশ্য অনেক বেশি হত।'
রেখা বললো ' এখন কেমন আছো কাকা?'
কাকা অবনীবাবু বললেন  'ভালো নেই মা ।তবে তোমরা আসাতে মনটা অনেক ভালো লাগছে।'
রেখা বলল  'কাকিমা সোমু এসেছিল?'
কাকিমা বলল  'হ্যাঁ এসেছিল ওর স্বার্থে।
ছেলেটাকে এখানে রাখতে এসেছিল।'
রেখা বলল  'তাই নাকি?'
কাকা বললেন 'ননী মা,বলে দিয়েছি সংসারটা তুমি ভেঙ্গেছ ।সুতরাং তোমার সংসারের দায়-দায়িত্ব তোমাকেই নিতে হবে। হ্যাঁ, তুমি এখানে বেড়াতে আসতে পারো কিন্তু বাবা-মায়ের ঘাড়ে ছেলে  রেখে দিয়ে তুমি ফূর্তি করে বেড়াবে ।সেটা হবে না।'
কাকিমা বললেন 'ছেলেকে সম্পত্তি দিয়েছে বলে মেয়ের রাগ। আবার ছেলেকে সম্পত্তি দিয়েও তাদের কোন সন্তুষ্টি নেই।'
কাকা বললেন 'দানপত্র করেছিলাম তো এখন ফেরতের জন্য মামলা করেছি বুঝলে, ননী মা।'
মনোজ বলল 'কাকা মামলার রায় আপনাদের পক্ষে যাবে ।আর সিনিয়র সিটিজেনশিপ মামলা করলে সেটা আরো তাড়াতাড়ি নিষ্পত্তি হবে।'
কাকিমা চা বানিয়ে নিয়ে এসে বলেন'কি আর বলব দুঃখের কথা বাবা ।ছেলের সাথে শেষ পর্যন্ত মামলা করতে হলো।'চোখের জল মুছতে মুছতে বললেন
এই নাও চা খাও বাবা, ননী তোর চা নে।'
মনোজ ও রেখা দুজনেই বলল 'কি দরকার ছিল কাকিমা এখন চা করার?'
কাকা ও কাকিমা বললেন'কি বলছ তোমরা মেয়ে জামাই বাড়িতে এসেছে চা খাওয়াবো না?'
রেখা বলল 'ঠিক আছে কাকিমা ।চা টা আমিও তো বানাতে পারতাম ।কষ্ট করে তুমি বানাতে গেলে?'
কাকিমা বললেন 'কষ্ট কিসের ননী ।কতদিন পর তুই আসলি। বাড়িতে যেন লক্ষ্মীর প্রবেশ হল। কী শান্তি যে পাচ্ছি মা, কি বলি? তোমরা বসো আমি একটু তোমাদের খাবার আয়োজন করি দুপুরের।'
রেখা ও মনোজ বলল  'না কাকিমা, তোমাকে কিছু করতে হবে না ।আমরা রায়দার হোটেল থেকে খেয়ে এসেছি ।বর্ধমান আসার পথে যে হোটেলটায় আগে তোমরা দাঁড়াতে ।এখানে ওখানে গেলে। মনে আছে?'
কাকু বললেন 'হ্যাঁ কতবার আমরা ওখানে যেতাম রে ননী,সেসব সোনালী দিনগুলো কোথায় গেলো?'
রেখা বলল 'এই জন্যই তো কাকু ওখানে আমরা খেলাম ।আসলে ওখানে গেলে তোমাদের সেই দিনের কথাগুলো মনে পড়ে ।স্মৃতি জড়ানো হোটেল।'
কাকু বললেন'হ্যাঁ রে রায়বাবু চিনতে পারলেন?'
রেখা বলল  'না ,উনি ছিলেন না ।তাছাড়া জানো তো কাকু ? হোটেলটা দুটো ভাগে ভাগ হয়ে গেছে।'
কাকু বললেন ' তাই নাকি?'
রেখা বলল  'হ্যাঁ কাকু ।সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যেন সবকিছুই পাল্টে যাচ্ছে।'
কাকিমা বললেন  'তোদের সেদিন আসার কথা ছিল তোরা আসলি না ।আর আজকে আসলি একটু তো বলবি যে ,আজকে আসছিস আমি রান্না করে রাখতাম। এটা খারাপ দেখায় মা ।জামাইকে নিয়ে এসেছো। তোমার মা বেঁচে থাকলে এটা করতে পারতে?'
রেখা কাকিমার হাত দুটো ধরে বলল'না কাকিমা তোমাদের বয়স হয়েছে তো বলো,আর কাকুর এরকম অবস্থায় এই জন্যই আমি বলি নি। তুমি কিছু মনে ক'রো না। নইলে তোমার হাতের মান কচু বাটা না খেয়ে যেতাম আমি?'
কাকিমা বললেন  'আমার হাতের মান কচু বাটা তোর এখনো মনে আছে মা?'
রেখা বলল ' শুধু মান কচু বাটা আর কলাই ডালটা মান কচু দিয়ে কি সুন্দর বানাতে তুমি ।সেটা যে খেয়েছে ,তাকে আবার তোমার কাছে এসে খাবার ইচ্ছা জাগবে।(গাল দুটোকে ধরে একটু আদর করে দিলো)।
কাকিমা বললেন 'তুই আগের মতই আছিস মা। এরকমই থাকিস।'
কাকা বললেন  'ননী জিজ্ঞেস করলি না তো ,তোর দাদা এসেছিল কিনা?'
এই কথাটা রেখার জিভের ডগায় এসেছিল কিন্তু কাকার এই সব কথা শোনার পর আর সাহসে কুলায়, নি।
কাকা বললেন 'সেও এসেছিল। তার বউ এক দিন ও রাত্রি বাস করতে চায় নি। ছেলেটা তো পুরো ভেড়া বনে গেছে।'
দীর্ঘশ্বাস ফেলে কাকা আরো বললেন 'এই তো আমরা আছি ননী? এখন চলে গেলেই বাঁচি বুঝলে?
রেখা বললো 'এভাবে কেন বলছো কাকা?'
কাকা বললেন'দুনিয়াটা এরকমই মা ।একটা গান আছে না ?'ওরে স্বার্থ ছাড়া বন্ধুবান্ধব কাছে আসে না। বিনা স্বার্থে দুনিয়ায় কেউ ভালোবাসে না। স্বার্থ ছাড়া ভালবাসে শুধু আমার মা।'
কাকিমা বললেন 'ছাড়ো না ওদের কথা।'
রেখা বলল  'তোমাদের সংসার কি করে চলে কাকিমা?'
কাকিমা বললেন  'তোমার কাকার পেনশন থেকে।'
রেখা বলল  'দাদা , কিচ্ছু পাঠায় না তোমাদের জন্য?'
কাকিমা বললেন  'মিথ্যে কথা বলব না। প্রথম প্রথম পাঠাতো। এখন তো পুরোই বন্ধ।'
রেখা বলল  'সে কি কথা কাকিমা ?'
কাকিমা বললেন 'তোমার কাকার ওষুধ আছে ।ফিজিওথেরাপি আছে। আমার ওষুধ আছে ।কিভাবে যে চলছে..?'
রেখা বলল 'তোমরা এখানে একা থাকবে কি করে ?একটা কথা বলব?'
কাকিমা বললেন  'বল?'
রেখা বলল  'তোমরা আমার ওখানে চলো না?'
কাকিমা বললেন  'সেটা কখনো হয়?'
মনোজ রেখা দুজনেই বলল 'কেন হয় না কাকিমা?'
কাকিমা বললেন  'নিজের বাড়ি থাকতে ,মেয়ের বাড়ি গিয়ে থাকা শোভা দেখায় না?'
রেখা বলল 'কেন কাকিমা মেয়েরা কি মা-বাবার দায়িত্ব নিতে পারে না।'
কাকু কাকিমা দুজনেই বললেন'নিশ্চয়ই পারে মা। কিন্তু আমার নিজের সন্তানরা বেঁচে থাকতে তোমার শ্বশুর বাড়িতে যাবো ,সেটা কি ভালো দেখায় মা?'
মনোজ রেখা চুপ করে থাকে।
কাকু বললেন  'তাছাড়া তোমার বাড়ি তো যৌথ পরিবার ।এমনিতেই শুনেছি রেখাকে পছন্দ করে না।
আমরা কোন চাপ বাড়াতে চাই না।'
রেখা বললো  'তাহলে কিন্তু আমি একটা কথা বলব ।সেটা তোমাদের মানতে হবে।'
কাকিমা বললেন ' কি কথা?'
রেখা বলল  'আমি মাসে মাসে তোমাদের টাকা মানি অর্ডার করে পাঠাবো ।সেটা তোমাদের নিতে হবে।'
কাকু কাকিমা দুজনে বললেন ' সেটা আমরা কি করে নেব মা?'
রেখা বলল  'কেন কাকু -কাকিমা ,আমি কিছু দিতে পারি না ?আমি তোমাদের জন্য কিছু করতে পারি না?'
কাকিমা বললেন  'দেখো মেয়ের রাগ হয়ে গেল।'
কাকু বললেন ছোটবেলায় ননীকে আমরা সকলেই ভালোবাসতাম ,অন্য সন্তানদের থেকে বেশি।'
কাকিমা বললেন  'সেইজন্য সোমু কত রাগ করত, ওর সঙ্গে হিংসা করত ,দেখ নি?'
কাকু বললেন  'ছোট থেকেই ও হিংসুটে ছিল?'
কাকিমা বললেন  'কী করে ও আমাদের সন্তান হলো বলো তো?'
রেখা বলল  'থাক কাকিমা, ছাড়ো ।আসলে ও ছোট ছিল তো ,এজন্য আদরটা বেশি পেতে চাই তো?'
কাকিমা বললেন  'দেখলে এই হলো আমাদের ননী। ওর বরাবর ছোট থেকে এই রকম শুভবুদ্ধি ছিল।'
কাকু বললেন  'হ্যাঁ গো ,ওদের ড্রাইভারকে কিছু খেতে দাও ।কি ভাববে বেচারা বলো তো?'
কাকিমা মা বললেন  'হ্যাঁ ,হ্যাঁ ।ওকে কিছু জল মিষ্টি দিয়ে আসি।'
মনোজ  বলল  'অতো ব্যস্ত হতে হবে না কাকু- কাকিমা ।ও তো খেয়ে এসেছে আমাদের সাথে।'
কাকিমা বললেন'যতই খেয়ে আসুক বাবা ,আমাদের কর্তব্য এটা করা ।আতিথেয়তা।'
রেখা বলল  'কাকিমা তোমাকে যেতে হবে না ।আমি দিয়ে আসছি।'
কাকিমা উঠার চেষ্টা করল কিন্তু দুপায়ে এতটা ব্যথা কাকিমা বলে উঠলেন  'বাতের ব্যথায় আমাকে কাবু করে ফেলল রে ননী?'
রেখা বলল 'সাবধানে কাকিমা '।(সঙ্গে সঙ্গে কাকিমাকে ধরে নিল)।
কাকিমা বললেন  'চল মা ।আমার সাথে ভেতরে চল।'
রেখার ভেতরে যেতে গিয়ে দরজার সামনে থমকে দাঁড়ালো।
কাকিমা বললেন ' কিরে দাঁড়িয়ে পড়লি?'
রেখা বলল' মায়ের ছবি দেখছি কাকিমা?'
তুই চোখে জল পড়ছে রেখার।
কাকিমা রেখাকে বুকের কাছে নিয়ে বলল'কাঁদিস না মা ।চিরদিন কি কেউ থাকে বল?'
কাকু বললেন 'ননী কাঁদছে কেন?'
কাকিমা বললেন ' কাঁদছে কেন বুঝতে পারছ না?'
কাকু বললেন  'তোর মা বাবা দুজনে ই চলে গেলেন ।ভালোই হয়েছে ।এখন আমাদের যাবার পালা।'
কাকিমা বললেন 'তোর মা আর আমি কত খুনসুটি করেছি রে ।এই বাড়িতে বউ হয়ে আসার পর কত আমাদের জায়ে জায়ে  মিল ছিল।'
রেখা বলল  'তা আর দেখি নি? তোমরা তিনজন মিলে ভাগ ভাগ করে কাজ করতে ,তোমাদের ভেতরে কখনো কোনো ঝগড়া হতে দেখি নি।'
কাকিমা বললেন ' ঝগড়া আমরা করি নি ।তাছাড়া আমাদের করার সাহসও ছিল না। তোমার দাদু ঠাকুমার কড়া শাসন ছিল। যদিও ঝগড়া করার প্রবণতা আমাদের ভেতরে ছিল না।'
রেখা বলল 'কাকিমা কৌটোগুলোতে কি রেখেছো নাড়ু?'
কৌটো খুলেই টপাটপ কটা নাড়ু খেয়ে নিল রেখা।
আর বলল কাকিমা এই নাড়ুগুলোই আমাদের ড্রাইভারকে দিচ্ছি ।তোমাকে এক্সট্রা মিষ্টি দিতে হবে না।'
কাকিমা বলল' তাই হয় ,মিষ্টি না দিলে কি ভাববে?'
রেখা বললো  'কিছুই ভাববে না ।এরকম হাতে বানানো জিনিস ,যেখানে ভালবাসার পরশ পরোতে পরোতে লেগে রয়েছে ।সব সময় তো দোকান থেকে কিনে খাওয়াই হয় ।এগুলো কোথায় পাওয়া যাবে বল তো কাকিমা?'
কাকিমা এনে প্লেটগুলো রেখার হাতে দিল ।
রেখা তাতে নাড়ু, মোয়া, মুড়কি, নারকেলের শাঁস ছাড়িয়ে প্লেটে করে নিয়ে গিয়ে ড্রাইভারকে দিল।
আর বলল 'এই নিন সঞ্জুদা।'
সঞ্জু বললো 'আরে ব্বাস, দারুন জিনিস তো?'
রেখা বলল  'সেই জন্যই তো আনলাম।'
সঞ্জু বলল ' চিরন্তন খাবার ।যেগুলো প্রায় এখন শহরের বাড়িতে খুব কম হয়। যার বাড়িতে যাও শুধু মিষ্টি আরো মিষ্টি।'
রেখা বলল  'আপনার পছন্দ হয়েছে?'
সঞ্জু বলল  'আলবত। এর মধ্যে দিয়ে আমি আমার মায়ের গন্ধ খুঁজে পাচ্ছি।'


                                                                                                              ক্রমশ 

কবি সানি সরকার এর দুটি কবিতা





বৃহস্পতিবার, মধ্যরাত্রি, দৌড়

সানি সরকার 

 

 

চৌকো গর্তের মতো পরিপাটি এই বিছানা

 

এত আলো

     এত সুগন্ধী

                       

জলের দিকে নেমে যাচ্ছি, জঙ্গলের দিকে

                পাহাড়ের দিকে…

 

আমাকে ধরো

 

এত ঘুর্ণন এত গানগন্ধী শামকোল এখানে

আমাকে ঘিরে ধরছে, চক্কর দিচ্ছে

                মাথার ওপর

 

চৌকাঠ পেরিয়ে যাব কীভাবে

আসলে কী চৌকাঠ পেরোইনি

এই যে ব্ল্যাকবোর্ডের ভেতর নেমে আসলাম

এখান থেকেই দৌড়বিদ তাঁর দৌড় শুরু করবেন

 

চৌকো গর্তের ভেতর

           অনন্ত বাঁক,

                জোনাকির টিপটিপ

 

চকের ওপর স্থির ওই মূর্তি

তাকেও ঘুরতে হবে, ঘুরতে ঘুরতেই

ছোট্ট টিপের ভেতর আমরা হাঁটব, ঘুমব না

 

তুমি তো সত্যি মানুষ

মানুষ কখনও ঘুমোন না কখনও

শুধু আলাপ জমান একটি নক্ষত্র থেকে আরেকটিতে

তাল ওঠে, গভীর নির্জন তাল, গভীর আরাম

 

আমাদের বিশ্রাম এমনিই, চলমান, মুহূর্ত থেকে মুহূর্তান্তরের

 

চৌকো গর্তের মতন এই মাটির বিছানা

শীতের, গ্রীষ্মের, তুলসীপাতার, নিমগন্ধ

বড় আরাম এখানে, বড় নাতিশীতোষ্ণ,

আমি সেই মৃৎশিল্পীকে খুঁজছি

ওঁর জন্যে অনেক প্রশ্ন জমিয়ে রেখেছি পুঁথির খাঁজে


 

 

 

 

চৌকো মাটির ঘর

সানি সরকার

 

 

প্রতিটি সাঁকোই দক্ষ  সাঁতারু

চৌকো ঘরের ভেতর এই যে

মাটির বিছানা, আতর, গোলাপগন্ধ…

এত শেয়ালের নাচ এই পচা দেহটুকু নেবে বলে

আয় আয় নে সবটুকু নে…

ক্ষুধা এমনই তীব্র আমি ছাড়া আর কে জানে

আয় আয় নে সবটুকু নে

 

সাঁকোটি ঘুমোয়, ওই একইভাবে

আমি চুপচাপ পাশটিতে বসে থাকি

 

আমাদের ছোট্ট ইরা বর্ণপরিচয় পড়ে

                নামতা মুখস্থ করে

রাতের পরে রাত শাসন করে সারারাত…

 

চৌকো এই মাটির ঘরের ভেতর থেকে

আমি শুধু শব্দটুকু শুনি, দৃশ্যটুকু দেখি

 

আমাকে আর গান শোনাবি না মা


গোলাম কবির





 নিঃসঙ্গ পার্কের বেঞ্চে একদিন 


 হেমন্তের প্রায় শেষদিকে নিঃসঙ্গ পার্কের
 বেঞ্চে বসে আছি একা। মাথার ওপর 
 আম গাছটার ওপরে বসে একটা কাক
 একটানা কা কা করতে করতে একসময়
 উড়ে চলে গেলো। একটু পরেই আমার
  সামনে পার্কের ন্যাড়া ঘাসের ওপর একটা
  লোমওঠা এবং পিঠের ওপর গভীর  
  ক্ষতচিহ্ন সগৌরবে বয়ে বেড়ানো 
  একটা সারমেয় বসলো আমার খুব গা ঘেঁষে। 
  আমি তার দিকে তাকাতেই কেমন জানি
  একটু নড়েচড়ে বসলো এবং নিজে নিজেই
  কিছুক্ষণ গজরাতে গজরাতে চলে গেলো
  আমাকে ফেলে একা। ভাবছিলাম ও 
  কেনো গজরাচ্ছিলো অমন করে! 
  তারপর হঠাৎ করেই মনে হলো ওর
  গজরানো এবং শরীরের ভাষা বলে দিচ্ছে
  আমার প্রতি তার এরকম চরম 
  অবজ্ঞাসুলভ আচরণের কারণ হয়তোবা
  আমি মানুষ বলে! ওর শরীরের
  ক্ষতচিহ্নের জন্য হয়তো আমার মতোই
 কোনো মানুষ দায়ী, যে কিনা ওর শরীরের
 ওপরে গরম কিছু ঢেলে দিয়েছে এবং 
 সেইজন্যই তাকে এই গভীর ক্ষত বয়ে
 বেড়াতে হচ্ছে, ওর তীব্র ঘৃণা মানুষের প্রতি
 হয়তো সেইজন্যই! হায়, মানুষ হিসেবে
 একটা সারমেয়র কাছেও হেরে গেছি
 আমরা! মনের ভিতরে এই প্রচণ্ড কষ্টের
 বোধ নিয়ে পার্ক ছেড়ে বেরিয়ে এলাম
 উন্মুক্ত আকাশের নীচে একটুকু সান্ত্বনা পাবার আশায় দুপুরের উত্তপ্ত পীচঢালা পথে।

শিবনাথ মণ্ডল




বাবুইয়ের বাসা


ঐ যে দেখি
বাবুই পাখি
তাল গাছেতে
    বাসা,

দর্জি পাখি
নামটি তোমার
ঘরটি বড়ো
খাসা।

ঝড় বৃষ্টি
বুঝে তুমি
ঘোরাও ঘরের
   দোর,
জ‍্যোনাকির
আলো নিয়ে
রাত্রি করো
ভোর।

পাতা চিরে
তৈরী করো
সুন্দর বাসা
খানি,
সুখে তোমরা
বাস করো
যেন রাজা
রানী।

বাসা তৈরীতে
শ্রেষ্ঠ বাবুই
সবাই মানে
হার,
এমন বাসা
তৈরী করার
সাদ্ধ আছে
কার?

ফরমান সেখ






বন্ধু আমার প্রিয়ার সাথে
        
পূর্বাকাশে  রবি ওঠে
চারিদিকে  আলোকিত,
বন্ধু আমার, প্রিয়ার সাথে
হয়েছে আজ  অবির্ভুত।

মিলেমিশে  খায় যে খানা-
পাশাপাশি  গোলটেবিলে,
হেঁসে ভাসায়  আনন্দতে
গল্প জমায়  দুজন মিলে।

কি হয়েছে  ফোনে কথা-
উদাত্ত মনে  নিশিরাতে,
সে কথা আজ  সামনা- সামনি
উঠেছে আজ  জম জমাটে।

কথা তাদের  ভাসছে যেন-
ভালোবাসার  বাঁশির সুরে,
চোখের কোণে  ফুটছে যেন-
সর্ষের ফুল  দিন-দুপুরে।

প্রিয়া বলে, তুমি আমার-
ভালোবাসার  প্রিয় হরি,
বন্ধু বলে, তুমি প্রিয়া-
আমার ডানা  কাটা পরী।

agga

LOVE

adgfg

LOVE