০৩ নভেম্বর ২০২১

শামীমা আহমেদ এর ধারাবাহিক গল্প "অলিখিত শর্ত"৮




শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত 
                                              (পর্ব )
   শামীমা আহমেদ 

 

                                                   চায়ের মগ হাতে  নিয়ে শায়লা বারান্দায় চলে এলো।সকাল হয়েছে। ছুটির দিন তাই শহরবাসী একটু ঘুমিয়ে নিচ্ছে। প্রতিদিনের মত ছুটোছুটিটা নেই।অবশ্য শায়লার এখন প্রতিদিনই ছুটির দিন।চাকরীটা ছাড়ার পর এখন জীবনের দিনগুলো অন্যরকম কাটছে।নিজের দিকে তাকানোর ফুসরত মিলেছে! কথায় বলে সুখ দুঃখ পালা করে আসে।
এখন শায়লাদের পরিবারে সুখের সুবাতাস বইছে।শায়লা প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নিচ্ছে।
রাহাত একটা ভালো চাকরী করছে।মায়ের দেখভাল, চিকিৎসা নিয়মিত হচ্ছে।দুঃসময়ের কষ্টটাকে যদি মাটিতে পুঁতে রাখা যায় তবে সময়ের পরিক্রমায় তা সুখবৃক্ষ হয়ে সুখের ডালপালা ছড়িয়ে দেয়। শায়লাদের সুখবৃক্ষ এখন রাহাত।আজ ছুটির দিনে সে একটু বেলা করে উঠবে।কর্পোরেট জবে যেমন হ্যান্ডসাম স্যালারী তেমনি কাজের বিস্তৃতি। তাতে কি? কথায় বলে---পেটে খেলে পিঠে সয়। তাছাড়া এতে লিভিং স্ট্যান্ডার্ডটা রাতারাতি বদলে যায়।যা একটা সরকারী চাকরীতে সারাজীবন লেগে যায়।
হঠাৎ শায়লার রাতের কথা মনে পড়তেই মোবাইলে চোখ চলে গেলো।খুব দ্রুতই ফেসবুকে ঢুকলো। হু,ফ্রেন্ড লিস্টে  চলে এসেছেন সেই কাংখিত "সততায় শিহাব" ভদ্রলোকের ছবিটি।
তাহলে কখন এক্সেপ্ট করলেন? টেরই পেলাম না!যা হোক বন্ধু যখন হয়েছে এক সময় সবই জানা যাবে।
মেসেঞ্জারেএকটু ঢুঁ দিয়ে আসি।শায়লার সিনিয়র জুনিয়র  অফিস কলীগরা অনেকেই তাকে খুব মিস করে।শুভ সকাল শুভ দুপুর ঈদ পূজা নিউ ইয়ার সব শুভেচ্ছাই জানায়। শায়লার ভালোই লাগে।ছোট একটা চাকুরী করলেও অন্তত সবার মনে একটা জায়গা নিতে পেরেছে,এটাই প্রাপ্তি! বেশ অবাক করে দিয়েই শায়লার চোখ একটা মেসেজে আটকে গেলো।শিহাবের মেসেজ,"শুভ সকাল"।ওহ! তাহলে সকালে এক্সেপ্ট করেছেন ভদ্রলোক। শায়লাও ভদ্রতা রক্ষার্থে পালটা শুভেচ্ছা পাঠিয়ে দিলো।শুভ সকাল।আজকের দিনটি সবার জন্য সুন্দর হউক।
শায়লা চায়ের মগে চুমুক দিতেই চট করে রিপ্লাই চলে এলো, কেমন আছেন?শায়লা খুবই স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই লিখলো, জ্বী, আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। আপনি? 
আলহামদুলিল্লাহ ভালো।
চা খেয়েছেন? সকালের মর্নিং টি বা বলা যায় বেড টি?
জ্বী,  এইতো চায়ের মগ হাতে বারান্দায়।
চমৎকার!  আমিও চা বানিয়ে নিয়ে বারান্দায়। নিজের হাতে যত্নে গড়া ছোট্ট ব্যালকনী বাগানে এসে বসেছি,,
জ্বী,সকালের চা, সারাদিনের জন্য মনকে প্রস্তুত করে।আর প্রকৃতির কাছাকাছি গেলেতো অন্য রকম ভালোলাগা।
ও প্রান্ত নীরব।শায়লা কি কথা বেশি টেনে নিচ্ছে? ছুটির দিন তারতো আজ ফ্যামিলিকে সময় দিতে হবে। ঠিক আছে আরেকটু দেখে না হয় আর কথা বাড়াবে না ।
তখুনি স্ক্রিনে উত্তর ভেসে উঠল! 
আচ্ছা  কথায় কথায় এত জ্বি জ্বি করা হচ্ছে কেনো?আমি কি আপনার অফিস বস? ফাইল দেখাচ্ছেন আর পাতা উল্টাচ্ছেন?
শায়লা বেশ লজ্জিতই হলো।তাকে বেশ রসিক মানুষই মনে হলো! মনে মনে ভাবল হ্যাঁ,চাকরীর সুবাদে একটুতো জ্বী হুজুর, জ্বী স্যার জ্বি ম্যাডাম এসেই যায়,  সেই বৃটিশ আমল থেকেই বাঙালির মুখে উঠেছে এই সম্বোধন। 
চায়ের সাথে গান শুনছেন না?
নাহ্, শুনতাম একসময়। এখন শোনা হয় না।
সে কি! গান ছাড়বেন না।আমি কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে গান শুনছি। গান হচ্ছে এই এক কাপ চায়ের মত, চুমুকেই চাঙ্গা! বিজ্ঞাপনের ভাষায় বললাম।
শায়লা নিজেকে সামলে নিয়ে লিখলো, হ্যাঁ, তবে শুনবো এখন থেকে। 
ঠিক আছে আবার কথা হবে। একটু ব্যস্ততা আছে। আর হ্যাঁ,আপনার প্রোফাইলে গিয়েছিলাম। বেশ ছিমছাম আপনি। অতিরিক্ত কিছু নেই। আর আপনার ভাবনাগুলোও অসাধারণ।বাই।
বলেই নিমেষে উধাও হয়ে গেলেন মোবাইল থেকে।শায়লা বিদায় নেবার আগেই!
কি যেন? খুব বুঝি তাড়া! নাকি এড়িয়ে গিয়ে আগ্রহ বাড়িয়ে যাওয়া।
শায়লা মনের অজান্তে নিজের প্রোফাইলে ঘুরে এলো।এইতো নানান  মনোভাবনার কিছু টুকিটাকি কথা লেখা আর অফিস কলীগদের সাথে একটা চাইনিযে খেতে গিয়ে অনুরোধে কিছু ছবি তোলা।লাল একটা সালোয়ার কামিজ পরা। শাড়ি খুব একটা পরা হয় না।এর জন্য মায়ের অনেক চাপা ক্ষোভ। কেন শাড়ি পরিনা।মাকে কিভাবে বুঝাবে যার দুটো বাস বদলে অফিসে যেতে হয় তার জন্য শাড়ি পরে বের হওয়া  কতটা ঝামেলাপূর্ণ ! মায়েরা একসাথে সবই চায়। মেয়ে স্বাবলম্বী হবে আবার সেজেগুজে অপরুপাও হবে।পাত্র পক্ষ একেবারে ছোঁ মেরে নিয়ে যাবে। তবে মধ্যবিত্তের জন্য  সাজগোজ, ফ্যাশান এসব বিলাসিতা খুব একটা মানায় না।  আজকালকার মেয়েদের দেখে তাদের পরিবারের অবস্থান বুঝ্য যায় না।তারা বেশ স্মার্ট আর পরিপাটি।ড্রেস বদলের মত বয়ফ্রেন্ড বদলায়।
শায়লার ভাবনায় আবার শিহাব চলে এলো।এতগুলো কথা যখন বলেছে তবে নিশ্চয়ই আবার কথা হবে।কথায়তো বেশ ভদ্রই মনে হলো। আর শায়লাকে জানার জন্য অতিরিক্ত কোন প্রশ্ন করেনি।এটা শায়লার ভালো লাগলো।কারণ সে আপাতত এত দ্রুত  নিজেকে জানাতে চাইছে না 



                                                                                                                  চলবে....

২৯ অক্টোবর ২০২১

kjuh

LOVE

lkjkgk

LOVE

jhgl

LOVE

hfgfrd

LOVE

asdfhj

LOVE

kh

LOVE

vjvjv

LOVE

uhgkg

LOVE

hgfg

LOVE

dxzgd

LOVE

২৮ অক্টোবর ২০২১

মমতা রায়চৌধুরী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন"৩৫


কান্ত মনেই লিখে চলেছেন লেখক।  তার নিত্যদিনের  আসা  যাওয়া ঘটনার কিছু স্মৃতি কিছু কল্পনার মোচড়ে লিখছেন ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন "





টানাপোড়েন ৩৫
চোখের বালি



                                                          সারারাত জ্বরে কাতরিয়েছে রেখা। কাশিটাও তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে। মনোজ সেই যে ফোন নিয়ে অশান্তি করলো ,তারপর ওষুধগুলো কাছে রেখে দিয়ে কোথায় যে আছে কে জানে?
রেখার খুব জল তেষ্টা পেয়েছে ।কোনরকমে উঠে দেখছে টেবিলের ওপর জলটা আছে ।গ্লাস টেনে নিয়ে ঢকঢক করে জল খেয়ে নিল। শরীরটা প্রচন্ড উইক লাগছে। বাথরুমে যেতে হবে। কোনরকমে উঠল রেখা ।উঠে বাথরুমে গেল। এসে আবার খাটের উপর বসে পড়লো ।বসে বসে ভাবতে লাগল  'মনোজ কোথায় গেল,?রাতে কি তবে এই ঘরে শুতে আসে নি। '
রেখা ভাবতে ভাবতে আবার শুয়ে পড়লো। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল পাঁচটা বাজে। ভোর হয়ে গেছে। রাস্তা দিয়ে মর্নিংওয়াক করা পথচারীরা কথা বলতে বলতে যাচ্ছে। 
তাহলে মনোজ কোথায় গেল?
না ,সত্যি কালকে রেখার ফোন ধরাটা উচিত হয় নি।
মনোজ সাধারণত রাগ করে না কিন্তু এবার যে কি হলো কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না।

৫ .৩০তে কলিংবেল বেজে উঠল"জয় গনেশ ,জয় গনেশ, জয় গনেশ দেবা...।"
সাত সকালে কে আসলো,? আমার তো ক্ষমতা নেই উঠে গিয়ে দরজা খোলার। মনোজ কি শুনতে পাচ্ছে না আওয়াজটা। বেজেই চলেছে। কি আশ্চর্য। দরজা নক করে ডাকছে " বৌদি ,বৌদি"।
রেখা কান খাড়া করে শোনে'।আরে ,এতো, সুমিতার গলা মনে হচ্ছে।  নির্ঘাত সুমিতা।
 বাবা ,সাতসকালে এসে হাজির। কি ব্যাপার, কে জানে? পরে রেখার মনে পড়ল আজকে তো সুমিতা মাইনে চেয়েছিল অ্যাডভান্স, এবার বুঝতে পারল ।কেন এত তাড়াতাড়ি সে কাজে এসেছে?
কোনরকমে উঠে গিয়ে দরজাটার কাছে গেল। দরজাটা খুলল 'কি ব্যাপার সুমিতা ,এত তাড়াতাড়ি আসলে?''
সুমিতা বলল  'ও বৌদি, আমি বাড়ী থাকবো না‌ ।এক জায়গায় যাব। সে জন্যই তাড়াতাড়ি আসলাম।"
রেখা মনে মনে ভাবল টাকা নেওয়ার না থাকলে  আজকে কাজে ই আসতো না।
সুমিতা বলল ' বৌদি তোমার শরীর খারাপ?'
রেখা বলল ' হ্যাঁ গো। তুমি আজকে ফিরবে তো?'
সুমিতা বলল 'দেখি।'
রেখা বলল 'তুমি তো দেখতেই পাচ্ছো যে আমার শরীরটা খুব খারাপ। কাজে না আসলে কতটা অসুবিধায় পরবো বলো তো?'
সুমিতা বলল 'যদি ফিরি, তাহলে কাজে আসব।'
রেখা বলল 'হ্যাঁ ,একটু চেষ্টা ক'রো।'
সুমিতা কোন কথার উত্তর না দিয়ে ঝাঁটা দিয়ে 
ঝাঁটাতে শুরু করল।
রেখা ও  কোন কথা বাড়ালো না । আস্তে আস্তে ড্রইংরুমের দিকে গেল,  দেখল মনোজ শুয়ে আছে।
টেবিলে Black label পাশে কাঁচের গ্লাস। ফোনটা সমানে বেজে যাচ্ছে।
এ সমস্ত দেখে রেখা আকাশ থেকে পড়ল। এ কোন মনোজকে দেখছে। এই কি তার স্বপ্নের পুরুষ যাকে এত ভালবেসেছে? মনে হচ্ছে যেন রেখা ওখানেই পড়ে যাবে ।নিজেকে সামলাতে পারছে না। সঙ্গে সঙ্গে মনোজের পাশে খাটে গিয়ে বসে পড়ল। চোখ থেকে জল পরছে। আর কি কি যে আছে কপালে, কে জানে? কেন হচ্ছে এসব? কি করেছে রেখা?'
রেখা কি ফোনটা রিসিভ করবে?'
ফোন নিয়ে যা অশান্তি হয়েছে গত রাত্রে ।তাতে রেখা সাহস পাচ্ছে না। কিন্তু এখন তো মনোজ অঘোরে ঘুমোচ্ছে ।ফোনটা রিসিভ করলে ,ও টের পাবে না।
কিন্তু ছলনার আশ্রয় নেওয়া  কি ঠিক হবে? নাকি একবার সুরঞ্জনদাকে ফোন করবে? মাথায় কিছুই খেলছে না। এমন সময় 'বৌদি বৌদি বৌদি ইইইই'।'
রেখা ভাবলো 'সূমিতা এত চেঁচাচ্ছে কেন?'
কোন রকমে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে রেখা সাড়া দিল - 'কি হলো সুমিতা। সাতসকালে এত চিৎকার করছো কেন?'
সুমিতা হাঁপাতে হাঁপাতে এসে বলল 'কলতলায় যেতে পারছি না ।মিলি চিৎকার করছে।'
রেখা অবাক হয়ে বলল  'কেন? ও তো তোমাকে দেখে কিছু তো বলে না ।হঠাৎ আজকে কেন তোমাকে দেখে চিৎকার করবে? তুমি কিছু করেছ নাকি?'
সুমিতা বলল   'না গো বৌদি, ওর বাচ্চাগুলো যেখানে আছে, ওখানে ছাইয়ের কৌটো আছে। তাই ছাই আনতে গেছিলাম।
রেখা বলল  'তাই বলো ।তুমি ছাই আনতে গেছ তো ,তুমি আমাকে বলবে তো?এ‌ সময় ও কাউকে এলাও করবে না ।বাচ্চাগুলোকে নিয়ে আগলে বসে থাকে।
রেখা বলল  'ঠিক আছে ,আমি যাচ্ছি ।আমার শরীরটা খারাপ জানো , তবুও আমাকে এত তোমরা হয়রানি করাচ্ছ না? '
আস্তে আস্তে মিলির কাছে গেল রেখা । কাছে গিয়ে  ডাকল  'মিলি ,মিলি ,মিলি ।' মিলি তখন লেজ নাড়ছে। রেখা গিয়ে ছাইয়ের  কৌটোটা আনলো। মিলি কিন্তু কিচ্ছু বলল না।
সুমিতা অবাক হয়ে দেখল আর বলল 'ও বৌদি ,ও কিচ্ছু বলল না তোমাকে?'
রেখা বললো  'আমাকে কেন বলবে? তোমরা নিশ্চয়ই ওর সঙ্গে কিছু বদমাইশি করেছ।।
সুমিতা বলল  'না গো বৌদি?'
রেখা বলল 'ঠিক আছে ।আর কথা বাড়িও না ।কাজ করো।
সুমিতা আপন মনে গজগজ করতে করতে বাসন মাজতে লাগলো।
রেখার মনে এখন সন্দেহের বীজ  দানা বাঁধতে লাগলো । এমন কি নিজের শরীর খারাপের কথাও এখন ভুলে গেল। মনের ভেতর যেন একটা আলাদা জোর এসেছে ।এই রহস্য তাকে উদ্ধার করতেই হবে।
রেখা আবার মনোজের ঘরে ঢুকলো ফোনটা তেমনি বেজে চলেছে ।
এবার রেখা ফোনটা রিসিভ করল  কিন্তু 'রেখা কোন কথা না বলে চুপচাপ থাকলো।
অপরদিকের কন্ঠ ভেসে এলো 'তুমি ফোনটা রিসিভ করছো না কেন? আজকাল আমার ফোন ধরতে তোমার খুব কষ্ট হয় ,তাই না?
রেখা তো অবাক হয়ে যাচ্ছে ।এ যে এক মহিলা কন্ঠ।এসব কি বলছে ?ফোনটা কি ক্রস কানেকশন হয়ে গেছে ।তবু কান পেতে শোনে আর কি বলে।
'আমার এখন কি উপায় হবে তার ব্যবস্থা তোমাকেই করতে হবে।'
রেখা ভাবছে ' ব্যবস্থা কি ব্যবস্থা?'
আবার বলছে মেয়েটি  'কি হলো মনোজ ?কথার সাড়া দাও ।শুধু আমি বকে যাচ্ছি। তুমি  চুপ করে থাকলে তো চলবে না।'
রেখার তো এবার শরীর কাঁপতে লাগল ।পায়ের তলার মাটি যেন সরে যেতে লাগলো ।আকাশ যেন তার মাথায় ভেঙে পড়ছে ।কি শুনছে? কে এই নারী ?যে মনোজকে তুমি তুমি করে কথা বলছে। কে ?কী রহস্য ?কিছুই বুঝতে পারছে না।
রেখা ফোনটা ধরে রাখতে সাহস পেলো না ।আর কি কথা বলে ফেলবে কে জানে ?ফোনটা রেখে দিল।
রেখা সেখানেই কিছুক্ষণ বসে চিন্তা করতে লাগল।কী পরিণতি এর, কিছুই জানে না? কেন তার স্বামী এরকম করছে আর মেয়েটির সঙ্গে তার স্বামীর ই  বা কি সম্পর্ক ?কাকে জিজ্ঞেস করবে ?এই মেয়েটি কি তার চোখের বালি হয়ে যাবে শেষপর্যন্ত ?তার সুখ-শান্তির সংসারে কি  আগুন লাগতে চলেছে ।যার জন্য আজ মনোজ রেখার সঙ্গে এত দুর্ব্যবহার করছে ।অথচ রেখা জীবনে মনোজকে এতটা প্রাধান্য দিয়েছে ।রেখার জীবনেও তো কম পুরুষের আগমন হয় নি । কিন্তু সেভাবে তো কিছুই ভাবে নি।  তার সমগ্র হৃদয়াকাশে হয়তো কেউ কেউ জায়গা করতে চেয়েছে কিন্তু বিরাজ করেছে মনোজ ই ।ভাবতে পারছে না কি করবে?
এরমধ্যে সুমিতা এসে বলল ' বৌদি আমার মাইনের টাকাটা দাও।'
সুমিতা তাড়াতাড়ি উঠে এলো তার মধ্যেও দরজার কাছে এসে দাঁড়িয়ে গেল সুমিতা।
সুমিতা বলল   'ও বৌদি, দাদা আজকে ওই ভাবে শুয়ে আছে কেন গো ?তোমাদের মধ্যে কি কিছু অশান্তি হয়েছে নাকি ?বাবা ,আমরা ভাবি শুধু আমাদেরই ভিতর অশান্তি আছে ।তোমাদের ও  ভিতর অশান্তি?'
রেখা বলল  'কি বলছ? কিসের অশান্তি হবে আমাদের মধ্যে ?আমার শরীর খারাপ ছিল, তাই একটু নিশ্চিন্তে এই ঘরে এসে শুয়েছে । এতে অশান্তির কি আছে সুমিতা ?আগ বাড়িয়ে  বেশি কথা বলো না তো ?এই নাও তোমার মাইনে । (রেখা ২000 টাকা হাতের মধ্যে ধরিয়ে দিল)।
রেখা জানে তো কাজের মেয়েগুলো এরকম ই ।এরা যা দেখবে সারা পাড়া গিয়ে  রটাবে। 
কিন্তু শেষরক্ষা কি হবে? রেখার' চোখের বালি'যে কখন অজান্তে বোপিত হয়েছে এবং তা বৃক্ষে পরিণত হতে চলেছে। তা বুঝতেই পারে নি। রেখার হৃদয়াকাশে কালোমেঘের ঘনঘটা। হয়তো রেখাকে অতি বর্ষণে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে ?রেখা কি তরী তীরে নোঙ্গর বাঁধতে পারবে? নাকি ভেসে যাবে কোন অজানায়।নিজেকে কি বাঁচাতে পারবে?

রুকসানা রহমান এর ধারাবাহিক উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়"২০

চলছে নতুন  ধারাবাহিক  উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়
লেখাটি পড়ুন এবং অন্যদের  পড়তে সহযোগিতা করুন  লেখককের মনের অন্দরমহলে জমে থাকা শব্দগুচ্ছ একত্রিত হয়েই জন্ম  লেখার। 
আপনাদের মূল্যবান কমেন্টে লেখককে  লিখতে সহযোগিতা করবে। 





উদাসী মেঘের ডানায়
( পর্ব২০)


রাস্তার ঘটনাটা তৃষ্ণাকে খুব ভাবিয়ে তুললো কি হচ্ছে
এসব,সামান্য এক ড্রাইভার এতোটা সাহস কোথা থেকে পায়, কারা ওরা?
হঠাৎ মায়ের ডাকে ভাবনা ছুটে গেলো
- তৃষ্ণা খাবিনা মা রাগ প্রায় দশটা বাজতে চললো
তখন থেকে দেখছি বাসায় ফিরে কি ভাবছিস
তৃষ্ণ- চলো খাবো কিছু ভাবছিনা মা, অযথা চিন্তা করোনা।
খাওয়া শেষ করে দেখে সারে দশটা বাজে অপু এখনো
ফোন করছেনা আজ নিজেই কল করে অপুকে সারপ্রাইজ দেবে এই ভেবে ফোন করলো।
অপু- সরি তৃষ্ণা একটু রাত হয়ে গেলো জানি প্রতিক্ষায় ছিলে।
তৃষ্ণা- মোটেই তা নয়, এমনি ফোন দিলাম আজ।
অপু- সত্যি বলতে লজ্জা পাচ্ছো,তাহলে রেখে দেই।
তৃষ্ণা- না রেখোনা, অপেক্ষা করিতো, রাত হয়ে গিয়েছে ফোন করছোনা, শরীর খারাপ হলো কিনা
জানার জন্য।
অপু-আমি দিব্যি ভালো আছি, যাক তাহলে আমার জন্য তোমার চিন্তা হয়।
তৃষ্ণা- এবার কিন্ত আমি লাইন কেটে দিবো।
অপু- না মহারানী না, রাখবেনা, আমি ছাদে বসে ছিলাম কখন যে খোলা প্রকৃতির হাওয়া আমাকে
আনমনা করে তুললো,রিংটোনটা বাজতেই ভাবনা ছুটে গেলো,দেখি তুমি, এও এক বিরাট পাওয়া আমার
জীবনে আজ তুমি নিজে কল করলে।
তৃষ্ণা- উদাসী হাওয়ায় কি ভাবছিলে?
অপু- ভাবছিলাম আমার জীবনের সাথে তেমাকে জড়ানো কি ঠিক হলো, আবার এও ভাবছি ভালোবাসার অধিকার কি আমার নেই।
তৃষ্ণা- অবশ্যই আছে, একটি প্রতারণার জ্বালে দীর্ঘ পাচঁটি বছর তুমি যে ধোর্যের পরিচয়,দিয়েছো তার পুরস্কার ও তুমি পাবে।
অপু- পুরস্কারটা বিধাতা দিয়েছেন সে হলো তুমি
হয়তো দেরি হলেও দূর্বিসহ জীবনের এতোটা পথ পাড়ি,দিয়ে আজ মুক্তির পথে দুজনাই হাঁটছি এও কি
কম পাওয়া,,আমার জীবনে বিশাল কিছু পাওয়া।
আর তোমার গুছানে সুন্দর কথা গুলোই আমার বেঁচে
থাকার অনুপ্রেরণা।
তৃষ্ণা- আমিও সব স্বপ্ন হারিয়ে ছিলাম ভেবেছি কষ্টের
জলে স্বপ্নরা বাঁচেনা, সেই জল থেকে ভাসালে তুমি
নতুন স্বপ্ন একেঁ।
অপু- তোমার প্রতি দিনদিন আমি এক তীব্র আকষর্ণে
জড়িয়ে থাকি কবে আসবে তুমি আমার ঘরে
অয়কান্ত মনির মতন তুমি আমাকে কেবলই টানছো।
মাঝেমাঝে বড় ভয় হয়।
তৃষ্ণা-কিসের ভয়?
অপু- তোমাকে সুখী করতে পারবোতো।
তৃষ্ণা- কেন পারবেনা, এসব ভাবতে নেই,আমিও যদি
একই কথা বলি।
অপু- তুমি আমাকে যা দিয়েছো পাচঁটি বছর নিরবে সরে গিয়ে কয়জন পারে দিতে সুখ শান্তি সবই দিয়েছো,বাকি আছে আমার কাছে একেবারে চলে আসা,আসবেনা?
আসবো খুব তাড়াতাড়ি, মা ও তাড়া দিচ্ছে,সামনের
মাসে ছাড়া ছুটি পাবোনা, একটা মাস আর একটু
ধোর্য ধরো।
ধরেই আছি গো মোনালিসা।রাত একটা বাজে সকালে
অফিসে যেতে হবে আমাদের আজ রাখি
ভালো থেকো
তৃষ্ণা- তুমিও



                                                                                                    চলবে...