১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

পূর্ণিমা ভট্টাচার্য ( টুকুন )




যুদ্ধ জয়

 

স্বপ্ন দেখতে চোখ লাগেনা

চাই যে মনের স্তর,

চেতন মন কে আড়াল করে

অবচেতনে তার ঘর।

    মনটাকে হালকা করে

    প্রাণখুলে খুব হাসো,

    সত্যি ভালো থাকতে হলে

    আগে নিজেকে ভালোবাসো।

কল্পনাকে রং লাগাতে

রঙ যদি না মেলে,

মনের যত রঙ আছে

সবকটা দাও ঢেলে।

    কাজের ফাঁকে মাঝে মাঝে

    ইচ্ছে গুলো দেখো,

    যেই ইচ্ছে ছুটে বেড়ায়

    তাকে সামলে রেখো।

নতুন নতুন ভাবনারা সব

যদি উঁকি মারে,

দেখবে তারা মনের ঘরে

কেমন কড়া নাড়ে।

   চিন্তা গুলো যদি কখনো

   দুশ্চিন্তা হয়,

   উপেক্ষা করবে তাদের

   কখনো পাবেনা ভয়।

জীবন যুদ্ধে তবেই যে

হবে তোমার জয়।

        .

ফরমান সেখ


প্রকৃতি


চারিদিকে     ভরে গেছে

    সবুজেরি শোভায়,

মাঠে মাঠে   রাখাল বালক

      গরু চরে ডোভায়।

নদীর কূলে   নৌকা মাঝি

     সারাদিন নৌ বাহে,

চারিদিকে   কত মানুষ

      কত কথা কহে।

গগন কোলে   সোনার রবি

     ঝিকিমিকি জ্বলে,

মাঠে মাঠে   চঞ্চল শিশু   

     হাসি হাসি খেলে।

চাষী ফিরে   মাঠে হতে

     নিয়ে লাঙল-গরু,

পাখিরা সব    ঝাঁকে ঝাঁকে

      বাঁধায় মিঠা করু।

ডালে ডালে    ঝুলে বাদুড়    

     হয়ে ফলের মতন,

গাছেরা সব   চারিদিকে  

    সেজেছে সে নতুন।

ভ্রূমরেরা মধু   খেয়ে

   ভ্রূমে ফুলে ফুলে,

কত গুলা    হুনুমানে

   হাসে হৃদ খুলে।

রাস্তা-ঘাটে  চলে যত

  রঙ বে-রঙের গাড়ি,

উঁচু নিচু    চারিপাশে

  কত লোকের বাড়ি।


১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

দীপান্বিতা রায় সরকার


ডাক 


ডুবে গেলে অথৈ 

ঘুমের  ভিতর ঘুমের আবেদনেই

ভ্রম ছিল, কখনও মৃত্যু  খুঁজিনি 


 এবার তো হতে পারি পার,

 সন্ধ্যার আঁধার জোনাকির আলো

এসো, নিমগ্ন হও, আমাকেও অন্তত এতটুকু জানো 


রেখ না কিছু শস্যের মজুতে 

জন্মান্তরে পিঠে গেঁথে দাও ঘ্রাণ 

বীজ থেকে বীজে, প্রবাহ সমীপে দাও প্রাণ... 


সহস্র বিন্দুতে জমে থাকা এই সমুদ্র, মন, আর 

ডুবুরি শরীর, স্তরে স্তরে জমে থাকা আলো 

এসো নিমগ্ন হও, এবার অন্তত  আমাকেও এতটুকু জানো

পিয়াল রায়


যদি কাউকে বলা যেত


যদি কাউকে বলা যেত 

কত হৃদয় ডুবেছে এখানে আপন রক্ত পানে

ঝড়ের আঁচলে দাফন মাসুম ফুলের প্রাণ

কত বুলবুল নিহত রাজার খেয়ালে পুড়ে

কালো মেঘে মেঘে ঘেরাও কত হৃদমর্মর গান

কত বাগিচাকে নিয়ে গেছে টেনে মৃতদের চোরাটানে 


মাটিও এখানে শায়িত কত ছলনার কৌশলে 

প্রতিদিন কত দীর্ঘশ্বাসে হয়রান কিসমত

ধীরে ধীরে এসে এখানে ঠেকেছে প্রস্থান নির্ভর

কত পথিকের অশ্রুক্লিষ্ট বিষণ্ণ পারাবত

ধুলোয় উড়েছে হৃদয়ের শব প্রেমের কপট ছলে 


মাটির মর্মে কান পেতে দেখো তুমি 

মাটির যত শোরগোল দাগ মাটির ওপরে শেষ 

নিচে পৃথিবীর গোপন কোনায় বেদাগ চারণভূমি


তাহমিনা শিল্পী


গভীর ঘুমের রাত্রিবাস


আধখানা বিমর্ষ চাঁদের আলোয়

স্বপ্নপোড়া চোখে জমিযে রাখি

ভগ্নাবশেষ জীবনের যাবতীয় গদ্য-পদ্য

আয়োজন করে বলবো,তার ফুরসৎ নেই।

সবার এত তড়িঘড়ি,

গলার কাছে আটকে যায় হা-হুতাস 

পাখি হলে ভালো হত

অন্তত দু একজনের পিছু নেয়া যেত

কিচিরমিচির করে খোলা যেত যত কথার ঝু্লি

নয়ত নীল সরোবরে খেলা যেত ডুব-সাঁতার।

বাতাসে ছড়াত  নতুন গান,

তারপর সব ভুলে গভীর ঘুমের রাত্রিবাস।


মোঃ ইমরান হোসেন


কবির মৃত্যু, কবিতার মৃত্যু


একজন বললেন, আজকে কবিতার মৃত্যু হবে

আরেকজন বললেন কবিতার নয়, আজ কবির মৃত্যু হবে

উৎসুক জনতা মূক হয়ে দাড়িয়ে আছে

তাদের আশা, হয় কবি নয়তো কবিতার মৃত্যু উপভোগ করা!

সকলে আনন্দ চায়; মৃত্যু চায়; মানে মৃত্যুর ভেতর দিয়ে আনন্দ চায়

এই কবিতা যদি বেঁচে থাকে ; 

উৎসুক জনতার দাঁতের চোয়াল খুলে পড়বে কবিতার শব্দ উচ্চারণ করতে গিয়ে

কান বধির হয়ে যাবে, শুদ্ধ বাংলায় ঢেউ তরঙ্গের মতো গালিগালাজ শুনে

চোখ খসে পড়বে নিজেদের অপকর্মের দৃশ্য কবিতা উৎপাদনের ছাউনিতে দেখে।

অতএব কবিতার মৃত্যু হোক

মুদ্রার একপিঠে অন্ধকার থাকলে অপর পিঠ চোখ দিয়ে দেখা যায়!

তাই কবির বাঁচার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু কবি বাঁচবে না!

কবিকে মরতেই হবে,কবিকে আত্মহত্যা করানো হবে

কবি বেঁচে থাকলে উৎসুক জনতার কান আবার বধির হবে;

শাস-রোধ হয়ে ব্রেইন স্ট্রোক ঘটবে।

ফলে জনতার কোটি চোখ জন্ম নিতে হবে। 

প্রতি জন্মের সাথে - সাথে চোখ গলে খসে পড়বে।

কেননা কবি আবার কবিতা লিখবেন।

কিন্তু দুঃখের বিষয়, চোখ তো একবার জন্ম নেয়

অতএব কবির মৃত্যু হবে, কবিতার মৃত্যু হবে।


গোলাম কবির


 নিজস্ব নদী 


 সবারই যে একটা নিজস্ব নদী আছে তা

 শুনে পরিচিত বন্ধুদের মাঝে কেউ কেউ

 আমাকে পাগল ভেবে বসে আছে! 

 আবার, কেউ এটাকে মেয়াদ উত্তীর্ণ

 মাদকদ্রব্যের ফল বলে ঠাট্টা করতেও

 পারে কিন্তু আমি এটাই মানি! 

 তাই, যখন মন খারাপ থাকে আমি তখন 

 প্রিয়তম নদীর সাথে মন খুলে কথা বলি!

  দেখি কখনো আমার কষ্টের কথা শুনে

  ওরও চোখ দুটিও জলে ভরে ওঠে,

  ও তখন নিজেরই আবেগ সামলাতে না 

 পেরে বন্যা বইয়ে দেয়, 

 যা শুধু আমিই টের পাই। 

 আমার যখন মন ভালো থাকে -

 তখন নদীটার সামনেই গুনগুন করে 

 গান গাই, ও তখন আমার গান শুনে 

 খিলখিল করে হাসতে থাকে, 

 কখনোবা রসিকতা করে বলে -

 এই বুড়োবয়সেও ঢঙ গেলো না তোমার ! 

 আবার ধরো, হঠাৎ করেই আমার 

 ইচ্ছে হলো নদীর গান শুনবো, 

 তখন অমাবস্যা কিংবা পূর্ণিমার রাত 

এসবকিছু বিবেচনায় আসে না আমার!

 নদীর সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে অথবা

 ওর তীরে বসে থেকে চুপচাপ থাকি, 

মনেহয় - ও যেনো আমার সামনে গান

করছে মিহিসুরে! কখনো তা ভাটিয়ালি,

 কখনো বাউলদের মতো সুরে 

আবার কখনো মনেহয় ঠিক সুবীর নন্দীর মতো

গলায় আমাকে শুনিয়ে যাচ্ছে, 

" একটা ছিলো সোনার কন্যা, মেঘবরণ কেশ ! " 

এতোসব কিছুর পর কি করে তোমরা বলো,

 আমি ঠিক বলছি না! 

আসলে প্রত্যেকটা মানুষের হৃদয়েই 

তো থাকে একটা প্রবহমান নদী! 

তা তোমরা মানো কিংবা না ই মানো!


 hhh

পূর্ণিমা ভট্টাচার্য ( টুকুন )


আয় বৃষ্টি


বৃষ্টি তোর সকালবেলা আসার কিসের তাড়া,

তখন আমার অনেক কাজ হয়না কিছুই সারা।

আসবি তুই দুপুর বেলা আমার অবসরে,

ভিজবো তখন জড়িয়ে তোকে

সবার অগোচরে। 

তা না হলে সন্ধ্যের পর আকাশ যখন কালো,

ঝমঝমিয়ে ঝরিস তখন থাকিস এলোমেলো।

বারান্দার একটি কোনে চুপটি করে বসে,

দেখবো তোকে বিভোর হয়ে চায়ে চুমুক দিয়ে।

ঝড়বি যে তুই অঝোর ধারায় জারুল শাখা বেয়ে,

আনমনে তে তোর  গান যে উঠবো মাঝে গেয়ে।

    


১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

হা‌বিবুর রহমান এ‌র লেখা "সহধ‌র্মিণীর হুঁ‌শিয়ারী বার্তা" ( ৪র্থ পর্ব )

ঘরের ভিতর থেকে কবি ধরেছেন দৃশ্যকথা গদ্যের ভাষায় ধারাবাহিক ভাবেই প্রকাশিত হয়ে চলেছে তাঁর অসাধারন সৃষ্টি। লিখতে সহোযোগিতা করুন লাইক ও কমেন্ট করে । পত্রিকার পক্ষ থেকে সকল পাঠক পাঠিকা লেখক লেখিকা সকলের জন্য রইলো অনন্ত শুভেচ্ছা



সহধ‌র্মিণীর হুঁ‌শিয়ারী বার্তা

                                                                                                       ( র্থ পর্ব ) 


‌যে‌কোন ধর‌নের লেখনী হ‌তে পা‌রে তা প্রবন্ধ, ক‌বিতা কিংবা গল্প এসব‌ কিছুর জন্যে যেটা প্রয়োজন তাহলো স্বচ্ছ ও সুন্দর মন দিয়ে চিন্তাভাবনার মাধ‌্যমে হৃদ‌য়ের অনুভূ‌তি‌কে উজাড় ক‌রে কলম চালা‌নো। লেখক বা লেখিকা‌গণ য‌দি সহৃদয়‌ কা‌ছের কেউ বা শুভাকাঙ্খী‌দের প‌ক্ষের কা‌রো কাছ থে‌কে নিয়‌মিত উৎসাহ ও অনু‌প্রেরণা পে‌য়ে থা‌কে ত‌বে ঐসব লেখকগণ কিংবা লে‌খিকাগণের প‌ক্ষে ভাল মা‌নের লে‌খা উপহার দেয়া সহ‌জেই সম্ভব। সহধ‌র্মিণী হয়ত সেই ভূ‌মিকাটাই ‌নিত‌্য পালন ক‌রে চ‌লেছেন।


লিখ‌তে যে‌য়ে যি‌নি আমা‌কে নিঃস্বার্থভা‌বে সব সময় সকল প্রকার সহ‌যো‌গিতা ও অনুপ্রা‌ণিত ক‌রে যা‌চ্ছেন সেই সহৃদয় ব‌্যক্তি‌টির কা‌ছে আ‌মি যারপরনাই কৃতজ্ঞ। এমন সহৃদয় ব‌্যক্তিত্ব পা‌শে থাক‌লে যে‌কেউ তার বহুমা‌ত্রিক সীমাবদ্ধতা থাক‌া স‌ত্বেও নিয়‌মিত লেখা লি‌খে যে‌তে পা‌রে ব‌লে আ‌মি বিশ্বাস ক‌রি। অা‌মি এ মহৎ হৃদ‌য়ের অ‌ধিকারী মানুষ‌টির নাম‌টি ঠিক এমুহূ‌র্তে এখা‌নে উচ্চারণ কর‌তে পার‌ছিনা যে‌হেতু তাঁর পক্ষ থে‌কে নি‌ষেধ আ‌ছে। 


 ইদা‌নিং লিখ‌তে যে‌য়ে কখনও কখনও সহধ‌র্মিণীর চোখ রাঙানি খে‌তে হয়। কারণ‌টি অবশ‌্য য‌থেষ্ট যু‌ক্তিযুক্ত। সারা‌দি‌নের অ‌ফিস শে‌ষে বাসায় এ‌সে কিছু সময় তো প‌রিবার প‌রিজন‌কে দেয়া এটা একজন গৃহকর্তা হি‌সে‌বে আমার নৈ‌তিক দা‌য়ি‌ত্বের ম‌ধ্যেই প‌ড়ে। সামা‌জিক মাধ‌্যমের সবগু‌লি‌তেই নিয়‌মিত বিচরণ আ‌ছে আমার। তাই অ‌ফিস শেষ ক‌রে বাসায় এ‌সে এগুলো শুধুমাত্র ভালমত না প‌ড়ে একট‌ু স্ক্যান কর‌তেও এক ঘন্টাকাল ‌কে‌টে যায়। 


তারপর ফেইসবুক বন্ধু‌দের লেখা প‌ড়ে মন্তব‌্য ও মতামত জানা‌তে য‌দি একঘন্টা সময়ও ব‌্যয় কর‌তে হয় তাহ‌লে হা‌তে আর তেমন সময় থা‌কে না। আর বাকী থাক‌লো নি‌জের লেখা চর্চাটা। হি‌সেব ক‌রলে দেখা যায়‌ স‌ত্যিকারা‌র্থেই সময় বের ক‌রে তা ব‌্যয় করার ‌তেমন সময় পাওয়া বড়ই দুষ্কর।


এমনই এক প‌রি‌স্থি‌তির ম‌ধ্য দি‌য়ে সহধ‌র্মিণীর একান্ত সমর্থন ছাড়াও সহৃদয় আপন বন্ধু ও ঘনিষ্ঠ‌দের‌কে অনুপ্রেরণায় মন্থর গ‌তি‌তে হ‌লেও আমার লেখনীর কাজটা  হা‌ঁ‌টি হা‌ঁ‌টি পা পা ক‌রে সম্মুখ পা‌নে এ‌গি‌য়ে চ‌লেছে। সৃ‌ষ্টিকর্তা‌কে সদা হা‌জির- না‌জির জে‌নে তাঁর উপর সদা তাওক্কাল বা ভরসা ক‌রেই চ‌লে আমার নিত‌্য কার্যক্রম।





ধারাবাহিক ৪র্থ  কিস্তি

মেঘশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়


অভিযোজন


প্রতি মুহূর্তের সাথে 
আমি পাল্টে যাই একটু একটু করে
বদলের ইতিহাস কালি কলমের প্রশ্রয় পায় না।
চুপি চুপি বয়ে চলে ফল্গু নদীর মত।

বাড়তি উপল পিছে ফেলে গেলে
হয়তো ভালো হত
তবু তাদের নিঃসঙ্গ করে
এগিয়ে যেতে মন চায় না। 

বেখেয়ালে ভরা সাজি 
কখনও উপছে পড়ে আপন মনে
রয়ে যায় পথের পাশে কোথাও।
সঙ্গমে পা রেখে হঠাৎ একদিন মনে পড়ে
সব তো আনা হল না…

অথবা সবই আনা হয়েছে
হয়তো স্রোতের টানে নয়…
অমোঘ অভিযোজনে।


 

রেহানা বীথি


উত্থান


নেমে যাও 

নিকট এবং নৈঃশব্দের দীর্ঘ আবেশে... 


একটি বিছানা, যেখান থেকে সমুদ্রের শুরু

সেখানে শুয়ে থাকো তুমি তোমার সঙ্গে 

বাধাহীন জল গড়িয়ে যাক আকাশে 


তোমার উত্থান ঘটছে জেনে রেখো 

এক অনন্ত তোমাকে ডাকে অবিরাম

তুমি পুলকিত হও নিজেকে মানুষ ভেবে 


নিজেকে মানুষ ভাবতে পারে না সবাই 

জীবন ও মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে পারে না সবাই


উম্মে হাবীবা আফরোজা


অন্তিমযাত্রা


মহাকালের যাত্রা ফেরিয়ে

ঘড়ির কাঁটাটা যেনো আজ বয়ে চলেছে

অন্তিমযাত্রার অভিমুখে।


মোহজালে বন্দী এই জীবন,

যেনো শত আলোকরশ্মির পিদিম জ্বেলে

মায়া অশ্রু-নয়নে আপাদমস্তক সমর্পিত হয়েছে

কোলাহল বিমুখতাময় জীবনের তরে।


হারিয়ে গেছে বর্ণিল সেই শৈশব,

ঘাস ফড়িং এর সেই প্রজাপতি মন,

স্বপ্নিল আবেশে ঘেরা কৃষ্ণচূড়ার পাপড়ি ছড়ানো প্রেমবিলাসী মন।


ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছি আমরা মানচিত্রের কাঁটাতারে বিচ্ছেদময় যাতনার রোষানলে।

হারিয়ে গেছে লাল টিপ, রেশমি চুঁড়ির ঝংকার,

আলোকচ্ছটাময় প্রাণচঞ্চল কিশোরীর মন।


হারিয়ে গেছে চিরতরে আমার প্রথম প্রেম, বাস্তবতার ব্যস্ততায়, নিদারুণ শূন্যতায়,

এমনি করে কালের স্বাক্ষী হয়ে হারিয়ে যাবেো আমি,তুমি, সেই বা তাহারাও।


সময়ের কাছে হারিয়ে যাবো আমরা সবাই,

এক কঠিন বাস্তবতায় অন্তিমযাত্রার সাথী হতে

তোমার অভিশপ্ত নাগরিক শহর থেকে

দূরে আরে দূরে।