১৮ ডিসেম্বর ২০২০

নীলাঞ্জন কুমার


সারবত্তা 



প্রার্থনা করো , 

সব কিছুর সারবত্তা 

ছুঁয়ে যেন খুঁজে পাই 

নিজস্বতা ।


অহং উড়িয়ে শেষ অবধি 

সেই আকাঙ্ক্ষা স্পর্শ 


এই মনে ।




স্তব্ধতা কি টেনে নিয়ে যায় 

সারাৎসারের কাছে !


জানা নেই।

সুশান্ত কুমার পাল




বেড়াজাল 

      

শত শত মিথ্যার বেড়াজালে-

 সত্যের প্রকাশ বড়ই কঠিন,

স্বার্থান্বেষী-ক্ষমতালিপ্সু- মানুষ  সর্বদা-উদগ্রীব,

মিথ্যা রচনায় ভরিয়ে দিতে-

শতাব্দীর পর শতাব্দী,

দশক এর পর দশক, প্রজন্মের পর প্রজন্ম,

 হজম করে ফেলে,

মিথ্যা রচনার রাঙানো ইতিহাস,

তখন সত্য বড় রুগ্ন হয়ে -

চাপা ক্রন্দনে ভরিয়ে দেয় আকাশ বাতাস ।।

-মিথ্যা কথন সত্যকে ভাসিয়ে দেয় অতল সমুদ্রে,

  ----'টেনে তুলবার বারবার চেষ্টা বিফলে যায় -

 মিথ্যা হজমকারী মানুষের 

আন্দোলনে। 

সত্য বারংবার- 

  দীর্ঘশ্বাস ফেলে ডুকরে-

 ডুকরে কেঁদে ওঠে-

হাহাকার করে,

সত্য-- 

 পুনর্বার চাপা পরে যায়-

মিথ্যার বেড়াজালে ।। 

      --------------

নাসরিন পারভীন

 


 করে সহজ কর জীবনকাল


জমে উঠেছে অস্থায়ী প্রলেপে বরফে পথ 

শুভ্র-সাদা সুন্দর অথচ ভুলে ভরা পিচ্ছল 

দুর্গম পথের এ দিকহীন পান্থনিবাস

 আমাকে সচরাচরই করে ঘরছাড়া 

যেই আমি চলতে শুরু করেছি

গন্তব্যে পৌঁছেই বুঝে গিয়েছি

গোড়াতেই ছিলো গলদ আমার।

কষ্টের জলাশয়ে শব্দহীন চিৎকার

আমার ; আমি লক্ষ্য ভ্রষ্ট  নিথর শৈবাল।

মন খারাপের শহরে 

ইবাদতের পবিত্র  সিজদায় 

নতজানু হয়ে চেয়েছি দিকদিশা,

খুলে দিয়ে অাত্মকথনের রোজনামচা  

প্রভু পথ দেখাও আমারে, করি মিনতি। 


মিনতির দরবারে আর্জিটুকুতে

জ্বেলে দিও হেফাজতে আশীর্বাদের বাতি আলোর দিশারী কর এবার,

অন্তঃকরণে কর তোমার তপস্বিনী 

পূন্য দান, তফসিল তাফসিরে 

স্মরণটুকু আমার গ্রহন কর,

গ্রহন কর তসবিহ তাকবীর 

সিজদার করজোড়ে মোনাজাত,

দুই-দুয়ারী মতাদর্শ বেভুল বান্দারে

মমতা রায় চৌধুরী




মা তোমায় বড্ড মনে পড়ছে


মা তোমায় আজ বড্ড মনে পড়ছে।

ভাবছি পাখির মতো উড়ে যাব স্নেহের  স্পর্শ পেতে।

বেশ তো ছিলাম তোমার স্নেহের নীড়খানিতে,

 ঘটা করে বিয়ে দিয়ে পুরলে খাঁচাটিতে।

 ভেবেছিলে বড়লোক বাড়ির বউ হয়েছে,

এমন সৌভাগ্য কজনার আছে?

 কিন্তু মাগো বড় বাড়িতে বড় যন্ত্রণা,

 বিনি পয়সার ঝি খাটছি সর্বদা।

যন্ত্রণার মন বালুচরের ঢেউগুলো,

আছড়ে পড়ে হৃদয়বীণায়।

এই তো সেদিন ভাতের ফ্যান ঝরাতে

গিয়ে হাতটাই গেল পুড়ে।

কেউ তো তোমার মতো আসলো না ছুটে?

বলল ও   না ,তোমার কি হয়েছে?

বলল শুধু, রান্না‌ হতে কেন দেরি হচ্ছে?

পোড়া যন্ত্রণায় ছটফটাচ্ছি স্নেহ স্পর্শ পেতে। 

সারাটা রাত্রি কেটেছে আজ অনিদ্রাতে,

 ছাড়তে হচ্ছে বিছানা অতি প্রত্যুষে।

 তোমাকে তাই বড্ড মনে পড়ছে।

সকালে বিছানা না ছাড়ার কারণে,

পাড়া-প্রতিবেশী আত্মীয় স্বজনে,

হাজারো কথা শুনিয়েছে তোমাকে।

মিষ্টি হেসে শুধু বলতে-' উঠবে সময় হলে'

আজ কে উঠবে আমার  ঢাল হয়ে?

জানো মা , গতরাতে জ্বরেতে গা যাচ্ছিল  পুড়ে,

সেই ঘোরেতে ভুল বকেছি সারাটা রাত ধরে।

তাতেও বকুনি জুটেছে শতগুণ কপালে।

তোমাদের জামাই এসব তোয়াক্কা  না করে,

 সবার কথা ভেবে চলে শুধুই দিনে রাতে।

ভেবে পাইনা আমার মূল্য কতটা তার কাছে?

যন্ত্রণাদগ্ধ হৃদয়ে বড্ড মনে পড়ছে।

সর্বদা মন খারাপে, যন্ত্রনার ব্যথা উপশমে,

 এখন কোথায় পাবো তোমাকে?

মন বালুচরে তাই মিছেই  মরি খুঁজে।

আমার একলা মনের আকাশ জুড়ে  

শুধু তুমি , তুমি ই আছো যে নক্ষত্র রাজি হয়ে।


মোঃ আমিনুল ইসলাম

 


এ বিজয় অমর 



১৬ ই ডিসেম্বর তুমি বাঙালির অহংকার, তুমি কোটি জনতার, 

১৬ ই ডিসেম্বর তুমি মহা বিজয়ের মহা উল্লাস, 

তুমি বিদবা মায়ের বন্দী স্বাশের শান্তির নিঃস্বাস,

১৬ ই ডিসেম্বর তুমি ১৮কোটি মানুষের চলার পথের

উৎস প্রেরনার, 

তুমি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা প্রতিটা বাঙালির গর্ব। 

দুঃখ -সুখের অনুরণ স্বপ্নীল বাসনার,

কত বিপ্লবী বন্ধুর রক্তে রাঙা 

আমাদের এই স্বাধীনতা

তারা কি ফিরবে এই সুপ্রভাতে

যত তরুণ অরুণ গেছে অস্তচলে,

নাকি অমর হয়ে রয়ে যাবে

শত কোটি বাঙালির বুকে। 

খুলে দাও আজ সব ক'টা জানালা

আমি প্রান খুলে চিৎকার করে 

গাইবো বিজয়ের গান 

ওরা আসবে চুপিচুপি 

দেশ টাকে ভালেবেশে দিয়েছে যারা প্রান........!

তাহসান-কামরুজ্জামান




কবিতা


কবিতাগুচ্ছে ঘুণ পোকা ধরেছে

কবিত্বে মেঘের আনাগোনা শুরু

হয়েছে ;

অস্তিত্বের সঙ্গে কবিতা খুব করে

আড়ি পেতে বসেছে;

অভিমানী চোখেরজল গড়িয়েছে

রাতের আঁধারে নীরব বুকের যন্ত্রণা

থৈথৈ করে বাসা বেঁধেছে,

সুখেরকাঁটা থমকে গিয়েছে

কালস্রোতে অক্ষিকোটরিতে ভ্রম

ধরে মৃত্যুর দেখা দিয়েছে। 

অদ্ভুতদর্শনে মনস্তত্ত্ব বিভ্রান্ত হয়েছে,


বেঁচে থাকার পথঘাটগুলো নালিশ

করে গ্রাম্য বিচার বসিয়েছে ;

ভালোমন্দের ঘরে আগুন জ্বলেছে,

তুমি অক্ষারে ক্ষতবিক্ষত হয়ে

রক্তেজলে হৃদয় ভাসিয়েছে ;

নীল চিরকুটের বিচ্ছেদ ঘটেছে

কত শতাব্দীকাল ধরে গুছানো স্বপ্নে

অগ্নিরথের দেখা মেলেছে।

মানভাঙার জোয়ারে অনুভবগুলো

ভাসিয়ে নিয়েছো,


প্রত্যাশায় আশাহত করে বিনাদোষ 

অভিশাপ্ত করেছো ;

নিয়ম করে চিঠি দিবার ডাকপিয়নের

পথ আটকে দিয়েছো ;

অনিশ্চয়তার বানের জ্বলে শেষ

কবিতা লিখতে রুখে দিয়েছো।

১৭ ডিসেম্বর ২০২০

নাজমা সুলতানা



কেমন আছো বাংলাদেশ  


বাংলা মায়ের অশ্রুসজল

চোখের পানে চেয়ে 

পথে নামল দামাল ছেলে 

নামল দামাল মেয়ে ।


লড়েছ তারা বুক চিতিয়ে 

আগে পিছে থেকে 

বাংলা মায়ের আব্রু তারা 

রাখবে সদা ঢেকে।


বাংলা ভাষা মধুর ভাষা 

বাংলা দেশের  মাটি 

সোনার বাংলা সোনার চেয়ে 

অনেক বেশি খাঁটি ।


বিজয় গর্বে বাংলার ছেলে 

ফিরল মুখে হাসি 

আমার সোনার বাংলা আমি 

তোমায় ভালোবাসি  ।


সত্যি বলো বাংলা আজ

হাসছে প্রাণ খুলে ?

বিজয়ীর বেশ পরে নাকি 

কাঁদছে এলো চুলে  ?

মশিউর রহমান রবিউল



বিজয় নিশান


লরেন্টসের ক্যামেরায় দেখেছি-

সোনার বাংলা পুড়ে ছাই,

আজ পোড়া ছাইয়ের বুকে দাড়িয়ে

রুপসী বাংলার গান গাই।


আমরা মিলেনিয়াম প্রজন্ম -

গা সওয়া হয়ে গেছে বারুদের গন্ধ, 

দেখে নাও পাক শত্রু,আমরা প্রভার সঞ্চারী

তোদের লাগি বাংলার সকল দ্বার বন্ধ। 


তোদের রক্তাক্ত হাত দুমড়ে মুচড়ে 

আনন্দে ভেসেছি,করেছি বিজয় স্নান,

দীপ্ত উচ্চারণে শুধাই তোদের-

বাংলার দিকে তাকাসনে,মারবো হিংস্র বান।


গৌরব গাঁথা ইতিহাসের ধ্বজাধারী মোরা

বিজয়ের হাসিতে বিজয় পতাকা বইবো,

শহীদের আত্মদানের প্রতিফোটা রক্তকে

চুমুতে আদরে বুকে তুলে লইবো।


রক্তের প্লাবনে ধুয়ে মুছে

ঘোচাবো সকল অকল্যান,

ছিড়তে দেবোনা লাল সবুজ পতাকা

বাঙ্গালীর রক্ত যতক্ষণ এ দেহে বহমান।


শৌর্যে,বীর্যে, তূর্য আমরা

মননের ধনি আমরা বাঙাল,

পাকীদের অহংকার ধুলায় লুন্ঠিত

নরপশু তোরা চির কাঙ্গাল।।

রেখা আক্তার



প্রিয় বাবা


প্রিয় বাবা,

কেমন আছো? মনে হয় খুব ভালো!

ভালো থাকার ই কথা,

এখন তো তোমায় কাউকে শাসন করতে হয় না!

কেউ তোমার কাছে কোন আবদার ও রাখি না,

তাহলে তুমি ভালো না থাকলে কে ভালো থাকবে?


আচ্ছা বাবা,এখন যে আমরা ভুল করি 

তা কী তুমি দেখতে পাওনা?

তোমার কী ইচ্ছে হয় না,আগের মত বকে দিতে?

ভুল গুলো শুধরে দিতে?

নাকি ইচ্ছে করেই এসব করতে চাও না?


বাবা এখন বুঝে গেছি তোমার অভাব কতখানি!

তাইতো রোজ রাতে নিয়ম করে 

আকাশের তারার দিকে তাকিয়ে 

বাবা বাবা বলে চিৎকার করি।

আর তোমাকে খোঁজ করি।


তুমি শুনতে পাওনি আমার এই চিৎকার? 

নাকি শুনেও ইচ্ছে করেই লুকিয়ে থাকো

ঐ তারাগুলোর ভীড়ে! 

আর লুকিয়ে আমাকে দেখে 

মিটিমিটি করে হাসো।


ভালো থেকও বাবা।

ঐ আকাশের তারাগুলোর ভিড়ে 

তোমার সুখের ভুবনে।

সুলতানা রিজু



একটুখানি ভুলের ভুলে


একটুখানি ভুলের ঝড়ে এলোমেলো

হয়ে গেল একখানি সাজান বাগান।

নড়ে গেল শক্ত মনের ভিত,

ভেঙে গেল মনের বাড়ি।

স্বপ্নেরা উড়ে উড়ে,উড়ে গেল দূরে।

বেশত ছিলাম আমি ভালোই ছিলাম,

পৃথিবীটা আঁকড়ে ধরে। চাঁদকে ছিনিয়ে

নিয়ে জ্যোস্না বিলিয়ে দেব তারে।

একটি ভুলের ঝড়ে এমন পৃথিবী থেকে

ছিটকে গেলাম আমি একাকী হোয়ে।

নিঃস্বর্গের কাছে থেমে গেল পৃথিবী সমেত

আমার সব গচ্ছিত সময়।

একখানি কালোমেঘ ঢেকে দিল আমার

উষসী আকাশ

ঠিকানা খুঁজে হয়রান তাই বাকিটা সময়।

জানি ফুল ফুটবেনা,পাখি আর গাইবেনা গান,

কুহু ডাকে ফিরবেনা আলসে দুপুর।

ফুলেফুলে সাজবেনা মনের বাগান।

সব রঙ মুছে দিল অনাহুত ঝড়। 


আচমকাই থমকে গেল সব,

ফুল ফোটানোর বেলা।

 কাঁচের মত গুড়িয়ে গেল বুকের ভেতর

শব্দাবলী মালা।

     

জীবনের সব কথা রয়ে গেল ঝড়ে ওড়া

একটি পাতায়।

আমার পৃথিবী এখন উড়বেই তবু

আমারি অপেক্ষায়।

সাহানা সিরাজী



মুক্তি


স্বাধীনতা দিবস সবার থাকলেও বিজয় দিবস কারো নেই,সবার মুক্তি থাকলেও আমাদের মুক্তি নেই।

ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের চোহদ্দী কাঁটাতারের ভেতর থাকলেও  মননের কাঁটাতার উঠেনি; স্বাধীনতা পেলেও সার্বভৌমত্ব  আজো মিলেনি-

শ্রেণি সংঘাত চলছে তো চলছেই

শ্রেণি বৈষম্য চলছে তো চলছেই

সামাজিক ট্রায়াঙ্গল নীতি ভেঙে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো 

হলো না আর এই ঊনপঞ্চাশেও ;


মুক্তির ভেতর আরেক মুক্তি হাহাকার করছে

যুদ্ধের ভেতর আরেক যুদ্ধ নীরবে অশ্রুপাত করছে।

জামার ভেতর ছেঁড়া গেঞ্জির মতো পরিপাটি আমরা

টকটকে লাল বাঁশের ভেতর ঘুণ যেমন 

আব্বার কবর যেমন বেদখল 

আম্মার ঘর যেমন লুটপাট বেখল

আমাদের মুক্তিও তেমনি ঘুণে ধরা বেদখল।


মুক্তির ভেতর অন্য মুক্তি ছেঁড়া কাপড়ের  ঠিকানা

ঠোঁটের ভেতর আরেক ঠোঁট  আইনের সূঁতোয় সেলাই করা,জোরে হাঁচির শব্দেও ঝরে কালো রঙের রক্ত

আমরা পারি না শোক করতে,বিলাপ করতে

আমরা পারি না মুখ বাঁকা করতে


গেরিলাযুদ্ধ সবাই দেখে

অস্ত্রের যুদ্ধ দৃষ্টিগোচর

ডুবতে থাকা  জাহাজের নাবিকের বাঁচার যুদ্ধ কেউই দেখে না; খুলে নিয়ে যায় এমন কী ইঞ্জিনও 

মাছের দৃষ্টিতে ক্যাপ্টেন  তাকিয়ে থাকে 


মুক্তির ভেতর আরেক মুক্তি বাঁচার জন্য চিৎকার করে

আমরা দুহাতে কান চেপে রাখি

আমরা কালো কাপড়ে চোখ বেঁধে রাখি,

আমরা খাবারের প্লেটে পানি ঢেলে উচ্ছ্বসিত  হই,

কেবল সমস্বরে গেয়ে উঠি -

"আমার সোনার বাংলা,আমি তোমায় ভালোবাসি "

সেলিনা আহমেদ



স্বাদের বিজয় 


বিজয় বিজয় বিজয় 

আজ চারদিকে বিজয়ের উল্লাস। 

উল্লাসে উল্লাসিত আজ পুরো বাংলাদেশ । 


জাগো মানুষ জাগো

ভেঙে ফেলো হিংসার দেওয়াল

সব ব্যবধান ভুলে গিয়ে, বিজয়ের 

নিশান উড়িয়ে, মুক্তির স্বাদ নাও।


ঘরে ঘরে আজ আনন্দের জোয়ার, 

তোমাকে ফিরে পাওয়ায় হে স্বাধীনতার বিজয় । 

লাল সবুজে সেজেছে, বাড়ি অফিস, আদালত। 


মা তোমার শঙ্কা কেনো আজ?

টগবগিয়ে খুন ছুটছে ধেয়ে 

লাল-সবুজের পতাকা হাতে 

নবীন প্রবীন, কৃষক, মজুর সবে। 


মা,আজ অন্ধকারে নেই তো কেউ 

আলোর মশাল হাতে প্রতি ঘরে ঘরে। 

তোমার যোগ্য উত্তরসুরী রয়েছে পথ চেয়ে,

 হবে হবে জয়,নেই কোন ভয়।


মা তুমি পরিপূর্ণ, 

তোমার দেশ আর 

নয়তো কারো অধীনে।

রয়েছে আজও 

কেউ কেউ তোমার 

নিন্দুকের দলে। 

ভয় কি মা? 

নিন্দুকেরা আছে বলে,

আমাদের সবার সজাগ দৃষ্টি। 


আজ এই বিজয় দিবসে

 সবাই একসঙ্গে বলি,

এদেশ আমার, এদেশ তোমার, এদেশ লাখো শহীদের। 

বিজয় বাংলাদেশের,

আমাদের বাংলার ।

এন. এইচ. চৌধুরী বিপ্লব



বিজয় কেতনের 


৫২ এর ভাষা আন্দোলন-

৬৯ এর গণ বিস্ফোরণ -

৭১ এর স্বাধীনতার বারুদ। 


দু'শো বছরের ব্রিটিশ শাসন

চব্বিশ বছরের পশ্চিমা শাসনে

যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে জীবন,

অধিকার আদায়ে মুক্তির মিছিলে

প্রতিবাদী কন্ঠে আগুন ছড়াল।


শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে

বিপ্লবের পথে কোটি পদধ্বনির আওয়াজ,

৭০ এর গণতন্ত্রী জনতার দাবানলে পুড়ল শাসক

তাই ৭১ এর ২৫ শে মার্চের কালো রাতে

নিরীহ ঘুমন্ত জনতার উপর গুলি ছুঁড়ল ।


একি! রক্তের হোলি খেলায়

হত্যাযজ্ঞে সম্ভ্রম কেড়ে নিয়ে,

আমার স্বাদের মানচিত্রে

কলঙ্ক রেখা টানল হায়েনা রূপে।


ঘুরে দাঁড়াল বাংলার আবাল বৃদ্ধ ভণিতা

বেজে উঠল যুদ্ধের দামামা,

বিপ্লব স্পন্দিত বুকে নয় মাস অবিরাম সম্মুখ যুদ্ধে

শহীদের রক্তে ও মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে

হে স্বাধীনতা তোমার এল বিজয় আজকের দিনে।


সেই থেকে ৪৯ বছর ধরে বিজয় তুমি

আস উল্লসিত হৃদে বাতিঘর হয়ে,

দাম দিয়ে কেনা স্বাধীনতার বিজয়

আজও কেন  পৌঁছায়নি স্বাধীনতার মূলমন্ত্রে?


বিজয় তোমায় নিয়ে গর্ববোধে

আমজনতার নেই উৎসবের কমতি,

৭১ এর মত কাঁধে কাঁদে মিলিয়ে

মুছে দিতে চাই সকল অসংগতি।।


সুবর্ণ জয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে কড়া নাড়ছে

স্বাধীনতা দিবসের উৎসবের কলধ্বনি,

বিজয় দিবসে প্রত্যয়ী সব মন

একসুরে বলুক আমার সোনার বাংলা,

আমি তোমায় ভালবাসি- ভালবাসি ।