২২ নভেম্বর ২০২০

হাবিবুর রহমান হাবিব



অক‌বির অ‌চিত্র

ভিসু‌ভিয়া‌সের আ‌গ্নেয়‌গিরীর লাভার মা‌ঝে কি কোন প্রেমহীন ভালাবাসা বা প্রশা‌ন্তির চিহ্ন আ‌ছে ? যা শুধু নি‌র্মোহ, নির্লিপ্ত, ক্ষ‌য়ে চ‌লে‌ছে কা‌লের পর কাল ।

 সুনা‌মি‌তেও ভা‌সি‌য়ে ছিল ঘর,বাড়ী,আমা‌দের খেয়া তরী।

তবুও ম্লান হ‌য়ে যায়‌নি পাতা ঝরা সেই সব স্বপ্ন গু‌লো ।

হিটরা‌রের গ‌্যাস চেম্বা‌রেও যাওয়া হয়‌নি,‌সে তো পরাজ‌য়ের ই‌তিহাস,পু‌ড়ে গে‌ছে অ‌নেক স্ব‌প্নের ই‌তিকথা ।

গত জ‌ন্মে যারা  বে‌ধে‌ছিল পড়ন্ত বি‌কে‌লের পা‌খির বাসা, সে কি এখ‌নো আ‌ছে ?  না‌কি পাহড়ী কোন ঝর্ণায় প্রস্ফু‌টিত স্নিগ্ধ ভো‌রের শি‌শির মাখা ,কোন অজানা ফু‌লের উপর চিরকা‌লের পাথর চাপা দি‌য়ে আ‌ছে ?

দিলারা রুমা ( যুক্তরাজ্য )



সুন্দর সবুজ নগর 

আবার আগের মতো ছুটে চলছে মানুষ

যেন করোনা বলতে কিছুই নেই

মনের গহীণে ধুক ধুক করে 

 কখন কার শরীরে করছে এর বাস।


হঠাৎ করে থমকে গেলো কেমন করে পৃথিবী

 করোনা থামিয়ে দিলো

 এক এক করে বিশ্ব নগরের প্রতিটি কল কব্জা। 


 কতজন বিদায় নিলো  কতজন সুস্থ হলো 

 এলোমেলো হয়ে গেলো জনমন 

আতংকের করাল গ্রাসে  বন্দী

 আমি তুমি আমরা। 


দিন দিন বাড়ছে করোনার প্রভাব 

তবুও মানুষ কি করবে 

বিশ্বজুড়ে উপায়ান্তর হীন বিবেক

 এখন যেন ঠিক আগের মতো 

বিষ জেনেও মধু ভেবে করছে পান 

 প্রয়োজন অপ্রয়োজনে গাইছে গান 

শুধু নিজেকে শান্তনা দেয়া 

ছাড়া কিছু নয়।


 আধুনিক যুগে  যুদ্ধ মহাসরঞ্জামের কালে

 স্তব্ধ বিজ্ঞান নিরব দার্শনিক, 

কোথাও কোন কলরব নেই 

ভাষাহীন বিশ্ববিবেক।


 প্রতিটি মানুষ চোখ বুঁজে নিরবে

 বলে অন্তর্যামি ক্ষমা করো 

ফিরিয়ে দাও সুন্দর সবুজ নগর।

উদয় শংকর দুর্জয়



সবই ছায়া হয়তো আবছায়া

সেপথ অনেকটা দূর পার করে এসে দ্যাখে, এক আকাশ মায়াচ্ছন্ন ছায়া ফেলে গ্যাছে ভুলো পাখি। সব ছায়ারই একটা 

আলাদা গল্প থাকে। একটি অস্তিত্বের বাহ্যিক অবয়ব 

যাকে আমরা ছায়া মনে করে পায়ের নিচে পিষে ফেলি। 

তা আদতে একটি অস্তিত্ব, একটি সৃষ্টির প্রকাশ। 

একটি রঙের আড়ালে আরেকটি রঙ।


চাঁদ যেমন পাশাপাশি হেঁটে যায় ঠিক ছায়াও। 

আলোরা নেমে আসে ঝর্নামাদলের দল নিয়ে, 

ছায়ারা লুকিয়ে যায়া উতসবের আড়ালে। বিহবলের 

বৃষ্টি নামলে বৈধব্যের রঙ মুছে আবার নামে ছায়ান্ধাকার। 

শোকেরও তাপ থাকে, মেঘের অনুযোগ থেকে 

পাতায় ভর করে ছায়াপরাগ নামে। 


মৃত্যুর হয়তো কোনো ছায়া নেই, আবছায়া আছে। 

কোনো বর্ণ নেই, কিন্ত নিবিড় কলতান আছে। 

কোনো কিছু অতিক্রম করার নেই। শুধু পড়ে থাকে 

অস্পষ্ট হ্রদ দীর্ঘ ছায়ার মতো, যেখানে পারা ওঠা আয়নায় 

লেগে থাকে ঝাপসা চোখ।

মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী

কূলবধূ 

রক্তাভ পড়ন্ত বিকেলে গিয়েছিলাম

মেঘনা নদীর চরে,

দেখা মিললো এক সুন্দরী কূলবধূর,

দাঁড়িয়ে আছে চরঘেষা নদীর তীরে ঘোমটা ধরে! 

শুধালাম- 

"কে গো সুন্দরী, দাঁড়িয়ে আছো মেঘনার বালুচর গাঁয়ে?"

শাঁখা-সিঁদুর পরা স্বর্ণলতা,

লাজে মরি মরি বললো পূরনারী-

"এসেছি ঘটে জল নিবার তরে।

২১ নভেম্বর ২০২০

তুষার ভট্টাচার্য


মাটির মাদুরে 

মন খারাপ হলে আমাকে তুমি খুঁজে পাবে আদুল প্রান্তরে 
মাটির মাদুরে, অনাদরে পড়ে থাকা ফসলের স্তুপে   ;

মন খারাপ হলে আমাকে খুঁজে পাবে তুমি 
মেঘ শ্রাবণের বৃষ্টি জলে  চান করা বটের ঝরা পাতায়;

মন খারাপ হলে আমাকে
খুঁজে পাবে তুমি
রাঙা মাটি ধুলো পথে উদাস বাউলের একতারায়;

মন খারাপ হলে খুঁজে পাবে তুমি
মলিন আকাশ থেকে খসে
পড়া মৃত হলুদ তারায়;

মন খারাপ হলে আমাকে খুঁজে পাবে তুমি
একদিন ভোরবেলা 
রৌদ্রে ধুয়ে যাওয়া
ধানের শীষের ডগায়।

মধুমিতা রায়



অক্ষরসংলাপ

আমি তো প্রহর লিখিনি

কাব্যও নয়,

শুধু কিছু ভুল জুড়ে জুড়ে

লিখে গেছি অবাধ্য সময়।


লিখে গেছি মিছিমিছি

নির্ঘুম রাতের প্রলাপ

বিশ্বাস ভাঙা কিছু

অযত্ন সংলাপ।


তারপর জানলায়

শব্দের কুয়াশার ভিড়

ভিজে গেছে পৃষ্ঠারা  

অক্ষর ভেঙে চৌচির।


আঙুল ছুঁইয়ে তবু

স্বপ্নের ভোর দেয় ডাক

বলে যারা ভুলে গেছে

তারা ফিরে যাক।

জাফর রেজা



শূন্যতা

আজন্ম অবহেলা অযত্নে বড়ো হওয়া

অতি সাধারণ এই আমি।

পুরোনো দালানের চিলেকোঠা ও যেন 

আমার স্থায়ী ঠিকানা নয়

প্রিয় অপ্রিয় কারো কিছু  নই

স্বাদহীন নিরামিষের মতো।

কিছু ধারণ  করার ক্ষমতা আমার নেই

হারিয়েছি চেতনা, 

আমার অনুর্বর মস্তিষ্ক কূড়ে কূড়ে খায়

ঘুন পোকা,

শুনিনা  পাতা ঝড়ার মর্মর শব্দ  বাতাসের স্নিগ্ধ পরশ পাইনা অনুভবে, 

আমার চোখে  আকাশের কোনো রং নেই

নেই আবীরের মাখামাখি, 

আজ সব কিছু অদৃশ্য

শুধু দৃশ্যমান একটি নিঃসঙ্গ নদীর নিরব হাহাকার..

সৌগত রাণা কবিয়াল



গোধূলি যুগলবন্দী

সেদিন, শান্ত বিকেলটায়,

কল্পতরু বিছানায় গা এলিয়ে সারল্যের বুকে কান পেতেছিলাম,

সেখানে একটি 'অভিমান' আর একটি 'অভিযোগ'

কথা বলছিলো নিজেদের সাথে...

ওরা গোলাপের রঙ নিয়ে ঝগড়া করছিলো..

আর পাশ দিয়ে একটি হলুদ প্রজাপতি 

চুপ করে মৃদু হাসছিলো...আর ভাবছিলো..

" ফুলের রঙে আর কি আসে যায়

যদি তার গন্ধই না নেয়া যায় "....;;


আমাদের যৌবন গেছে আজ বহুরাত..

এখন প্রেমে হবে শুধুই মনের রেখাপাত..!

নূরজাহান শিল্পী ( যুক্তরাজ্য )


শুধুই তুমি

প্রিয় লাল গোলাপে রঙ্গিন হলো মন

বর্ষায় বইছে সমীরণ

তুমি আর তোমাতে ছোঁয়া লেগেছে যখন আলাপনে

এমনি ঘোর বর্ষায় ছিলাম মায়া মাখা 

 হৃদয় আলিঙ্গনে 

প্রথম প্রেমের পরশ মেখে তোমাতেই নিমগ্ন জীবনের সেই মধুক্ষণে

লাল গোলাপ ভেজা  ছিল ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টির জলে

আবেগি মন ডুবেছিল সমুদ্রের অতলে

এমনই এক বিকেলে পত্র-পল্লবে শোভিত ছিল সেই ক্ষণটুকু ।

হেমন্ত এসেছিল হলুদ পাতার আবরণে 

দখিনা বাতাসে হৃদয় ডুবেছিল  শান্ত দিঘীর জলে

গোধূলির লগনে হৃদয় হলো রোমাঞ্চিত

 একটি নীল খামে বিলাসী

 পূর্ণিমার অবগাহনে

কিছু শব্দে আবেগে নিসর্গ শিল্পকলায় আলো আঁধারের মায়াতে

সাগরে মেশার আকুলতায়

সেই মাধবী বিকেলের রুপ আর রূপক ছিলে তুমি।


শুধুই তুমি  শুধুই তুমি শুধুই তুমি।

শ্যামল রায়



সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় স্মরণে

চলে তো যেতেই হবে

তবুও যেন ভালো লাগে থাকলে

কিন্তু থাকেন না কেউই

থাকেন যারা সৃষ্টিকর্মে

তাদের বেঁচে থাকাটাই বেঁচে থাকা

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় তার মধ্যে একজন।

শ্রদ্ধা জানাই অভিনেতা নাট্যকার

সর্ব গুণের অধিকারী প্রিয় মানুষকে।

কত অন্ধকারকে দূরে সরিয়ে

যাতায়াতে বিরাম ছিলনা তার

সাবলীল ভাষায় কত কণ্ঠস্বর শুনেছি

আজ  সংসারের সীমান্ত পেরিয়ে

নিরিবিলি জায়গায় অবস্থান করেছেন তিনি।

তবুও ভাবি তিনি আছেন থাকবেন

সকলের কাছে চিরটা কাল।

হাসিমুখ ,সকলকে আপন করে নেওয়ার

আন্তরিকতা ছিল সেই মানুষটির

সুন্দর কথার মধ্যে দিয়ে তার অভিনয়

এখনো যেন উজ্জ্বল নক্ষত্র

সাদা পাতা জুড়ে 

শুধুই অক্ষরে অক্ষরে তার মুখ

তিনি হচ্ছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।

শুধুমাত্র চোখ বুজে ঘুমিয়ে আছেন

আমরা শুনতে পাচ্ছি সমুদ্রের গর্জন

অসংখ্য ঢেউ আমাদের স্বপ্ন দেখাবে আগামীতে

তাই স্মরণে রেখে শ্রদ্ধা সৌমিত্রকে।

                  (2)


সূর্য হয়ে থেকো

আমি তো বেশ আছি, ভালো আছি

অন্ধকার দেখে দেখে ।   তবুও

নদীর পাড় ভাঙ্গা শব্দ বন্ধ রেখে

উষ্ণতা খুঁজে নেবো

তুমি পাশে থেকো

সূর্য হয়ে থেকো।

এই পৃথিবীর সবকিছু সুন্দর

ভাবনাটার রকমভেদ হতে পারে

রং-তুলিতে নানান ছবি হতে পারে

তবুও আমরা চাইছি সুন্দরতা

বেঁচে থাকার জন্য স্বপ্নে মোড়া

সুন্দর একটা পৃথিবী---।

তাই কপূরের মত উবে যাওয়া

ভালোবাসা, গতিশীল চিন্তা, উন্নয়ন

চাইনা কখনো---

চিরস্থায়ী সবুজতা নিয়ে,

 নীল আকাশ দেখবো

এ পৃথিবীর সব কিছুই সুন্দর

আমরা সকলেই পাশাপাশি থাকবো

ভালোবাসাবাসিতে---

তুমি সূর্য হয়ে থেকো খুব কাছাকাছিতে।

ফাহমিদা ইয়াসমিন ( যুক্তরাজ্য )

Add caption

হাতের স্পর্শে

সুখ ঘিরে থাকুক মনের আঙিনা 

চলো ভুলে যাই ছিলো যত দু:খ বেদনা 

রাতের আকাশ জুড়ে লক্ষ তারার মেলা 

হাতের স্পর্শে বাজুক কফির পেয়ালা। 


তুমি আমি মিলে মিশে থাকবো আজীবন 

মান-অভিমান দূরে ঠেলে এক হবো দুজন

দুটি মন এক হবে এই নিয়মে চলি

দুটি মনে ফুটুক আবার ফুলের কলি।


কোন কথা নেই আর চলো চেয়ে রই

এই সুখে সুখ খুঁজি সুখ গেছে কই?

সুখ আছে তোমার আমার সুন্দর মনে

এই সুখে থাজা যাই দূরের গহীন বনে।

জি এম কাউসার আলী(অষ্ট্রেলিয়া)


জোৎস্নার ফুল 

তুমি কি অনুভব করো না,দেখতে পাচ্ছো না

যেখানে তোমার দু চোখ সেখানেই আমি।


তোমার বুকের গহীনে অতীত দিনের গাঁথা মালা,

এবার কি গলায় পরবে না?

শিশির ভেজা ঘাসের উপর পা রাখলে কি পড়বে না মনে?

ঘাসের উপরে নিরবে দুজনার অনেকটা পথ চলা।

মনের গভীরে মাঝে মাঝে সুর তোলে

এক অজানা বাউল

বিস্তৃতির অতল গুহায় আবারো ফিরতে হয়- ফিরে যাই

ভালোবাসার পথে বারে বারে এই একা পথ চলা

ভালোবাসার হিরন্ময় সাধ ক্রমেই

বুকের মাঝে ডালপালা বিস্তার করে

বিবর অন্ধকার ভেদ করে অন্তহিন জোৎস্না 

আমরা আবারো স্বপ্নের জাল বুনবো

তুমি কি আমায় অনুভব করোনা?

তুমি কি দেখতে পাচ্ছো না?

কি অদ্ভুত সুন্দর জোৎস্নার ফুল

আজ তোমার আঙ্গিনায়

আমি হয়ে ফুটে আছি

এবারও কি গলায় পরবে না?

গীতা চক্রবর্তী



ঢেঁকির কাঁন্না

ঢেঁকির কাঁন্না কেউ কি শুনেছে কখনো

শেকড়ের সম্পর্ক কবেই ছেদ

জলেরও নেই বিশ্বস‌ংসারে।

তবুও মানো আর না মানো 

সেও পেতে চায় সম্মান ভালোবাসার  একাকীছাদ ।

 কষ্ট বিষন্নতায় যখনই ঘিরে ফেলে তখন চিৎকার করে

কিন্তু তোমরা কেউই শুনতে পাও না

কেন পাও না কেন 

সেওতো এই পৃথিবীরই একজন 

একাকীত্ব নীরবে সহ‍্য করে করে  লুপ্ত হবে।