মোবাইলে টাইম পাশ, সম্বৃদ্ধ উল্লাস সাহিত্য হাসি ঠাট্টা খুনসুটি বিন্দাস পড়তে হবে নইলে মিস করতেই হবে। মোবাইল +91 9531601335 (হোয়াটসঅ্যাপ) email : d.sarkar.wt@gmail.com
১০ জুন ২০২২
কবি গোলাম মোস্তফা এর কবিতা "আমাদের শিশু"
আমাদের শিশু
গোলাম মোস্তফা
শিশুরা নয়ন সুন্দর
শিশু মানে পরিবারে সুখের স্পন্দন
বয়োবৃদ্ধদের অবলম্বন
নতুন পিতামাতার সম্পর্কের দৃঢ় বন্ধন।
শিশু মানেই আধো আধো ডাক
আধো আধো উচ্চারণ
শিশু মানেই টলোমলো চলা
কষ্ট কল্পিত মিষ্টি সম্ভাসন।
শিশু মানে অনেক যত্ন অনেক প্রত্যাশা
শিশু মানে মাতার রাত ঘুমহীন
বিরামহীন পরিচর্যা আর ভয়ে ভয়ে দিন যাপন
শিশু মানেই পরিবারে জেগে থাকা স্বপ্ন রঙিন।
যে শিশু শান্তি আনে স্বস্তি আনে
বড় হলেই সে শিশুই আঘাত হানে
সে শিশুই পিতা মাতার দুঃখের কারণ
সে শিশুই পিতা- মাতার বুকে শেল হানে।
অনন্ত প্রত্যাশার শিশুর শিক্ষা হোক মানবিক
তোতা পাখি না হোক জীবন
বাস্তবতা দেখে ঠেকে ঠেকে শিখুক
সত্যের পথে পরিবর্তিত হোক আজীবন।
শিশুর শিক্ষা হোক কর্মমুখর
বাবু সংস্কৃতির উর্ধ্বে উঠুক পরিবারের অনুশীলন
শিশু স্বনির্ভর ভাবে গড়ে উঠুক
স্বার্থপরতা নয় পরার্থপরতা হোক তার মিশন।
কবি মোঃ হাবিবুর রহমান এর কবিতা "জ্যৈষ্ঠৈর দুপুরে"
জ্যৈষ্ঠৈর দুপুরে
মোঃ হাবিবুর রহমান
ছন্দ তুলিয়াই ময়ূর যবে পেখম মেলিল সবে গগনে,
কাকাতুয়ারা ধরিলো গান মনের সুখেই তা একান্তে।
কোকিলা এখনো ডাকে কু-হু কু-হু গাছের আবডালে,
মাছরাঙাটি বসে আছে একই ধ্যাণে মাছের সন্ধানে।
শামুকভাঙ্গারা দল বাধিয়া উড়িয়া গগনে ছুটে চলে,
কানা বকেরা মাছের সন্ধানে অপেক্ষার প্রহর গোণে।
হুতুম পেঁচাকে দিনের বেলায় দেখে হয় সবাই অবাক,
ঐ দূর হ'তে ভেসে আসে ঘুঘু পাখিদের সনাতন ডাক।
ভর দুপুরে দখিনার বাতাসে দোলা দিয়ে যায় মনে,
মনে ছন্দ জাগে সেই দখিনা মৃদুমন্দ বায়ুর তোড়ে।
ঘরের পাশে আম্রপাতার পত পত আওয়াজ যেন শুনি,
দুরূদুরূ মন আজি শুনি বিপদের কোন আলামত নাকি ?
জ্যৈষ্ঠের এ ভর দুপুরে সুরূজ ঢালিছে গ্রীষ্মের খরতাপ,
ধরাটা পুড়ে হ'চ্ছে তাই ফুটিফাটা যেন একদম ছারখার।
কোথাও নেই বাতাস, পত্রপল্লব হ'য়ে গেছে অসার সবি,
একোন সংকেত বুঝিতে না পারি বিপদের আশু ধ্বনি।
দূর আকাশে জমিছে কালো ঘন মেঘ ঈশান কোণে,
সবাই বসে আছে বৃষ্টির অপেক্ষায় বড় আশা নিয়ে।
০৯ জুন ২০২২
কবি দোদুল পার্থ "নিজেকে পাইনি কোথাও"
নিজেকে পাইনি কোথাও
দোদুল পার্থ
নিজেকে পাবো বলে আমি বহুপথ হেঁটেছি --
হেঁটেছি আমি সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত।
কাঁটানটের বন পেরিয়ে মাধবীলতার কাছে থমকে দাঁড়িয়েছি মৌনতায়,
দাঁড়িয়ে থেকেছি আকন্দফুলের বাকল ছুঁয়ে
শুধুই নিজেকে পাবো বলে ।
নিজেকে পাবো বলে পানকৌড়ির ঠোঁটে বসন্ত জমা রেখেছি,
কলঙ্কিত যমুনার চোখে এঁকেছি মেঘবতীর প্রণয়,
একমুঠো ধূসরতায় আমি খুঁজেছি পৃথিবীর তাবদ উষ্ণতা ,
তবুও নিজেকে পাইনি কোথাও !
আমার আমিটাকে বাঁধবো বলে হরিণ শাবকের কাছে শিখেছি গতিময়তা,
চন্দ্রের কিরণ থেকে একমুঠো সাদা আলোয় ভরেছি চায়ের পেয়ালা,
কদমের খসে পড়া রেণুর থেকে কুড়িয়ে নিয়েছি জীবনের প্রগাঢ় আহবান ,
তবুও নিজেকে বাঁধতে পারিনি !
নিজেকে পাইনি আমি স্কুল শেষে ঘরে ফেরা মেঠোপথে চৌধুরীদের আমের বনে।
পাইনি আমি শাহবাগ মোড়ে দাবি আদায়ের মিছিলে,
একতারা হাতে দাঁড়িয়ে থাকা কৌমুদী বাউলের সুরের মাঝে পাইনি নিজেকে।
অথচ নিজেকে খুঁজে চলেছি দুর্নিবার ।
মাতৃগর্ভ থেকে সদ্য ভূমিষ্ঠ হয়ে মা মা চিৎকারে গগন কাঁপিয়ে নিজেকে হারাবার পর,
আর নিজেকে আজও কোথাও খুঁজে পাইনি !
কবি শারমিন সুলতানা রীনা এর কবিতা "ব্যার্থ মানচিত্র"
ব্যার্থ মানচিত্র
শারমিন সুলতানা রীনা
আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নে ব্যাকুল হয়ে
বামন হলাম
বাতাসের শরীর বেয়ে ভেসে আসা
ডানা ভাঙা পাখীর আর্তনাদ স্তব্ধ করে
বেদনায় লীন হয় বিষন্ন গোলাপ
মহাকালের বুকে
সবুজ ফসলের বিরান মাঠ ফিরে কি পাবে হারানো সৌন্দর্য
পোড় খাওয়া প্রান্তর কাঁদে বিরহ শোকে
বুকে আগুন নিয়ে তবু কেউ সেচ হয়
জীবন জুড়ে শুধু আলো আঁধারের খেলা
ধূসর মরু বুক জলের প্রত্যাশায় বৃষ্টির জন্য অনন্ত অপেক্ষা
পলেস্তারা খসা প্রাচীন দেয়াল
লাগেনা শিল্পিত তুলির ছোঁয়া
কত চাওয়া পাওয়া গুমড়ে গুমড়ে কাঁদে
দিনের বদল হয় ঘোরে কালের চাকা
জীবন সেকি পথ ভোলা অন্ধ গলি
নাকি বিষন্নতার বৈরাগ,
জোয়ারে মত্ত নদী ভাঙনের উন্মাদনায় কেঁপে ওঠা পাড়
সে কি পাহাড়ি ঝর্ণা চোরাবালি পথ
পেঁজা তুলো মেঘ রংধনুর সাতনরি হার
অবিচল পর্বত নাকি কেবলি সে এক ব্যার্থ মানচিত্র...
০৭ জুন ২০২২
মোঃ হাবিবুর রহমান এর প্রবন্ধ মানবিকতায় বোধ"
প্রবন্ধ
মানবিকতায় বোধ
মোঃ হাবিবুর রহমান
নিজে ভুল ক'রেও অনেক সময় অন্যের প্রতি অভিমান জন্মাতে পারে। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে এই অভিমানটি কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় দৃশ্যমান হবার আগেই শূন্যে মিলিয়ে যায়।
যাদের পঞ্চইন্দ্রিয় খুবই তীক্ষ্ণ এবং পাশাপাশি যাদের মন বেশ উদার প্রকৃতির তাদের এই বোধগম্যতা তথা চেতনাবোধটি বেশ আগেভাগেই ভুল করার সাথে সাথেই জন্মে থাকে।
বিবেকটি যাদের সদা জাগ্রত আর অন্যায় বোধটি যাদের তড়িৎ গতির মত ক্রিয়াশীল হয়ে থাকে, সমাজে এই সমস্ত মানুষেরা নিজের ভুল সহজেই বুঝতে পেরে অনুশোচনা ক'রতে থাকে।
আর এই বোধটি থেকে তাদের অকস্মাৎ ও অনাকাঙ্খিত অশান্তি থেকে দ্রুতই মুক্ত হবার অভিপ্রায় জাগে আর পাশাপাশি সদা এই ভুলটির জন্য তারা নিজেই নিজের প্রতি ধিক্কার জানাতে থাকে।
আমি মনে করি সমাজে এহেন উন্নত মন মানসিকতার মানুষেরাই প্রকৃত ভাল ও উত্তম মানুষ।
মানুষ তো ভুল ক'রবেই তবে কত দ্রুততার সাথে সে নিজেকে শুধরানোর চেষ্টা ক'রবে সে বিষয়টি স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা, মহন রাব্বুল আলামীন, আল্লাহতা'য়ালা যেমনটি পছন্দ করেন তেমনি এই জগতের ভাল মনের মানব মানবীরাও বোধ করি একদম এর ব্যতিক্রম নয়।
কবি অনুপ রায় এর কবিতা "মনের বাসনা
মনের বাসনা
অনুপ রায়,
আমি খুজেছি যাহারে !
আমার আপনার চেয়ে
আপন সে জন !
খুজি তারে আমি আপনার মাঝে!
আমার মনের তৃষ্ণিত আকাশে,
চাতক সমো আকুলও পিয়াশে!
আমার মনের পিয়ালও তমালে,
দেখি তারে ভোরের ও আকাশে!
রবির ও বেশে !
আমারই রচিত কাননে বসিয়া !
পরানও প্রিয়া মালিকা গাথিয়া,
পরাবে মোর গলে !
আমি শুনি যেন তার চরনের ধনী,
আমারই পিয়াশী বাসনায় !
আমার মনের গহনে আমি তারে
খুজেছি বারে বার...!
কবি মহিউদ্দিন আহমেদ এর কবিতা "মানিক বন্দোপাধ্যায়"
মানিক বন্দোপাধ্যায়
( চতুর্দশপদী)
মহিউদ্দিন আহমেদ
তোমার প্রতি ডাল পাতা রন্দ্রে মূর্ত মাটির ঘ্রাণ,
ধরিত্রীর বুকে কি অভূতপূর্ব এক বৃক্ষ তুমি !
জীবনের বালুচর ভরিয়ে আনো পদ্মার বাণ,
স্বপ্ন তরীতে আঁকো জীবন-কাব্য ধন্য জন্মভুমি।
কি করে বেঁধে ফেলো ক্ষুধা ক্লিষ্ট দারিদ্র্য চিত্রকথা ?
নিকষ আঁধারে পথ দেখিয়ে আদিম রত্ন ধন,
বুকের গভীরে অনিন্দ্য কাব্যিক আপামর-ব্যথা,
অবাক নয়নে পাপড়ি মেলে জনতা জনার্দন।
স্বপ্নের বীজ বুনে চলো খুঁজে নিয়ে নির্জন দ্বীপ,
ধূলিমাখা জীবনে গেঁথে অবিনাশী পদ্যের ঘ্রাণ,
কূয়াশা-পর্দা ঠেলে প্রকৃতি ভালে দিয়ে লাল টিপ,
পথহারা নদীতে জেগে উঠে দুর্বার কলতান ।
মশালে তোমার দেখে পথ বিভ্রান্ত সব পথিক,
দুর্দান্ত বাতিঘর তুমি আঁধার জগৎ-মানিক ।
০৫ জুন ২০২২
সাবেরা সুলতানা দিনা জুঁই এর কবিতা "শবনম তুমি ভোরের প্রেম"
শবনম তুমি ভোরের প্রেম
সাবেরা সুলতানা দিনা জুঁই
শবনম তুমি প্রভাত ভোরের অলংকার,
তোমার রূপে সারা বিশ্ব সাজে শবনম,
শত দুঃখের মাঝেও এক ধরনের সুখ
প্রভাতে চোখ মেলেই যখন পাই তোমর দর্শন,
এর খানিকক্ষন পরেই সূর্য্যের উদয়ের লালা,
ঘুম এক ধরনের মিষ্টান্ন রোদের ভান্ডারের মতো,
প্রতি রাতে স্বপ্নের মতোই চুম্বনের সংগ্রহে যায়,
ঝাঁক ঝাঁক স্বপ্নের পিপীলিকা শবনমের ফোটার মতো।
কবি গোলাম মোস্তফা এর কবিতা "তুমি চুপ কর"
তুমি চুপ কর
গোলাম মোস্তফা
তোমার কথা শুনি প্রতিদিন
বাজখাঁই উচ্চারণে বলা - চুপ করো
তখন বুকের মধ্যে হঠাৎ ভয়
জমা হয়।
কখনো কখনো বাড়ির আঙিনায়
সংগীসাথীদের সাথে জমে উঠি আড্ডায়
তুমি তখন তিরিক্ষি মেজাজে বলে উঠো
---এত হা হা হি হি আসে কোত্থেকে?
আমার আমতা আমতা করে বলা শব্দগুলো
তোমাকে আরো ক্ষিপ্ত করে তোলে।
যতই দুহাতের তালু এক করে কচলাতে থাকি
ততই তোমার চিৎকার বাড়ে।
মনে হয় তোমার কন্ঠস্বর টাকে শাণিত করতে কতই না অনুশীলন করেছ!
মনের কথা গুলো উচ্চারণ করতে পারিনে,
ভয়ে কন্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে।
শৈশবে আমার মা কখনো কন্ঠস্বরকে উচ্চ করতে দেন নি।
তিনি বলতেন - মিষ্টি করে কথা বলা অভ্যেস কর,
কন্ঠস্বর নীচু রাখার অনুশীলন কর,
হাসিটা মুচকি হাসিতে সীমাবদ্ধ রাখ
হা হা হি হি করে সবাই কে জানান দেওয়ার হাসি হাসতে নেই।
২৫ টা বছর এই অনুশীলনে প্রাণ পাত করেছি।
সংসারে সং সাজতে এসে দেখছি,
এখন তার বিপরীত।
আমার ছোট ছোট করে বলা,
মাথা নিচু করে মাটি সমান্তরালে চলা
কারো ঝঞ্জাট গায়ে না তুলেও
মিমাংসার হাত উচু করে তোলা
সবি গাত্রদাহের উপকরণ।
ছোট ছোট ত্রুটি
যাযাবরের মত জীবন যাপন তোমার চরম অপছন্দের।
টাকা আনা পাইএ জীবন সীমাবদ্ধ নেই।
পানের থেকে চুন খসলেই তুলকালাম,
সব শেষে - চুপ কর।"
উচ্চারণ থামাও,
উপভোগ কর সীমাহীন মুক্তির আনন্দ।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)








